আজকের দিনেবিশ্বভারতরাজনীতি

Tarique-Hasina : ‘কাঁটা’ হাসিনা, আগামী মাসে ভারত সফর এড়াচ্ছেন তারেক? ত্রিবেদীর মন্তব্যে বাড়ছে জল্পনা !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- শেখ হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা-নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সমীকরণে ফের নতুন মোড়। আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও, তাঁর ভারত সফর নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটি মন্তব্য ঘিরে জোরালো হয়েছে নতুন জল্পনা। তাহলে কি হাসিনা-ইস্যুর প্রভাব পড়ছে তারেকের ভারত সফরে?

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বসতে চলেছে ব্রিকস সম্মেলন। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও, সম্প্রতি শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকের পর পরিস্থিতি অনেকটাই জটিল হয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে জোরালো বার্তা দেন। তাঁর সেই বক্তব্যের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। হাসিনা-ইস্যুতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের সমীকরণেও তার প্রভাব পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সম্মান করে। তাঁর মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুখোমুখি বসে আলোচনা করলে বহু সমস্যার সমাধান হতে পারে। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধানের পথ খুলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ত্রিবেদীর এই বক্তব্য থেকেই প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি ভারত এখনও তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জট কাটাতে আগ্রহী? কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে নয়াদিল্লির অবস্থানকে গুলিয়ে দেখার কারণ নেই। ভারত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে, ওই ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে তাদের কোনও ভূমিকা ছিল না।

ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি মোদি ও তারেকের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও ছিল। সেই বৈঠক হলে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া একাধিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হতে পারত। কিন্তু তারেক রহমান যদি শেষ পর্যন্ত ভারত সফর এড়িয়ে যান, তাহলে সেই সম্ভাব্য বৈঠকও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

তবে এখনও তারেক রহমানের ভারত সফর বাতিল হয়েছে—এমন কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা সামনে আসেনি। ফলে ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর যোগদান নিয়ে জল্পনা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। এখন নজর সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলন এবং মোদি-তারেক সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে। হাসিনা-ইস্যু কি সত্যিই তারেকের ভারত সফরের পথে ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়াবে, নাকি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *