প্রবীণদের সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ…..
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- প্রবীণদের সুরক্ষা আরও জোরদার করতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছে কলকাতা পুলিশ–এর সদর দফতর লালবাজার। শহরের যে সব এলাকায় প্রবীণদের বসবাস বেশি, সেই সব পাড়া চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো, থানাভিত্তিক নজরদারি বাড়ানো এবং ‘প্রণাম’ প্রকল্পে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অন্তত তিন হাজার নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য প্রবীণদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো। পাশাপাশি, প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ‘প্রণাম’ প্রকল্পে নাম থাকা প্রবীণদের বাড়িতে নিয়মিত গিয়ে খোঁজখবর নিতে।
বিশেষ করে একা থাকা প্রবীণরা বাড়ির বাইরে যাতায়াত করতে পারছেন কি না, তাঁদের বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা মজবুত তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া, প্রবীণদের সচেতন করতে নিয়মিত আলোচনাসভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে থানাগুলিকে। প্রয়োজনে স্থানীয় ক্লাব ও কাউন্সিলারদের সহযোগিতা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রবীণদের জন্য ‘ডু অ্যান্ড ডোন্টস’-এর একটি তালিকা তৈরি করেছে। সেখানে বাইরের লোকের সামনে আর্থিক বিষয় আলোচনা না করা, কাজের লোক বা ড্রাইভারের পূর্বপরিচয় যাচাই, বাড়ির প্রবেশপথে ডাবল লক ব্যবহার এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত থানায় জানানো এমন একাধিক পরামর্শ রয়েছে।
যে সব প্রবীণের বাড়িতে সিসিটিভি নেই অথচ আর্থিকভাবে তা বসানোর ক্ষমতা রয়েছে, তাঁদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, যে সব এলাকায় অপরাধের হার তুলনামূলক বেশি, সেখানে বিশেষ করে রাতের শহরে টহলদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে প্রবীণদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ‘প্রণাম’ প্রকল্পের সূচনা করে কলকাতা পুলিশ। বর্তমানে এই প্রকল্পের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার। সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, বছরভর নানা অনুষ্ঠান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এবার সেই সদস্য সংখ্যা আরও বাড়াতে সব থানাকে উদ্যোগী হতে বলা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের এক কর্তার কথায়, “প্রথাগত ও সাইবার দু’ধরনের অপরাধেই প্রবীণরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই তাঁদের পাশে আরও বেশি করে থাকা জরুরি।”
