পুলিশের গুলিতে জখম নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সিরাজ!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, উত্তরপ্রদেশঃ শনিবারের পর রবিবার, সপ্তাহের শেষে পরপর এনকাউন্টারে কাঁপল উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ। এবার পুলিশের এনকাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হলো ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সিরাজ। রবিবার রাতে পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে পায়ে গুলি লাগে তার। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি পিস্তল ও কার্তুজ। জেরায় নিজের অপরাধের কথা স্বীকারও করেছে সে।
তিন মাস ধরে অত্যাচার, চিকিৎসকের কাছে ফাঁস হয় সত্য
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩০ মে গাজিয়াবাদের লোনি বর্ডার থানায় সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা নাবালিকার মা। অভিযোগে জানানো হয়, প্রায় তিন মাস আগে ১৩ বছরের ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে ভিনধর্মী যুবক সিরাজ। শুধু তাই নয়, মুখ খুললে তাকে সপরিবারে খুন করার হুমকিও দেওয়া হয়। ভয়ের চোটে কাউকে কিছু বলেনি ওই নাবালিকা।
কিন্তু সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে পরিবারের লোকেরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানেই চিকিৎসকরা জানান যে নাবালিকা ধর্ষিতা হয়েছে। এরপর পরিবারের চাপে সমস্ত কথা খুলে বলে সে। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয় বিধায়ক নন্দকিশোর গুর্জর নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন।
স্কুটার ঘুরিয়ে পালানোর চেষ্টা, তারপরই এনকাউন্টার
ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত সিরাজের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। রবিবার রাতে সেবাধাম টিলা মোড় রোডে যখন পুলিশ টহল দিচ্ছিল, ঠিক তখনই সেখান দিয়ে স্কুটারে চেপে যাচ্ছিল সিরাজ। পুলিশ তাকে থামার নির্দেশ দিলে সে স্কুটার ঘুরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু গতি বেশি থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা ধারের একটি ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে পড়ে যায় সে। পুলিশ তাকে ধরতে এগিয়ে গেলে, নিজের কোমর থেকে পিস্তল বের করে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে সিরাজ। আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি চালায় পুলিশও। পুলিশের একটি গুলি সিরাজের পায়ে লাগায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো এবং অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় এনকাউন্টার গাজিয়াবাদে
উল্লেখ্য, গাজিয়াবাদে গত কয়েকদিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় এনকাউন্টার। এর আগে গত বৃহস্পতিবার খোড়া এলাকায় ১৭ বছর বয়সি সূর্যপ্রতাপ চৌহান নামে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল আসাদ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার পর পুলিশ আসাদ ও তার দলবলকে ধরতে গেলে পুলিশের ওপর গুলি চালায় তারা। পালটা এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় মূল অভিযুক্ত আসাদের।
তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সিরাজকে এনকাউন্টার করল গাজিয়াবাদ পুলিশ। এই ঘটনার পর এলাকায় পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
