আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

Sir-Cooch Behar : বিএলওকে পছন্দ হয়নি! লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস বিলি করতে গিয়ে হামলার অভিযোগ, কোচবিহারের দিনহাটায় চাঞ্চল্য…..

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার মধ্যেই কোচবিহারের দিনহাটায় এক বিএলওর উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি সংক্রান্ত হিয়ারিং নোটিস বিলি করতে গিয়ে আক্রান্ত হন ওই বিএলও। মাথা ও কানে গুরুতর আঘাত নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় তদন্তে নেমে শনিবার একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এই ঘটনাটি ঘটেছে দিনহাটা মহকুমার গিতালদহ এলাকায়। আক্রান্ত বিএলওর নাম মনোবর হোসেন। তিনি গিতালদহের ২৭৮ নম্বর বুথের বুথ লেভেল অফিসার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগ, ভোটার তালিকার লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে তাঁর বুথের প্রায় ২০০-র বেশি ভোটারের নামে হিয়ারিং নোটিস এসেছে। সেই নোটিস বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলাকালীনই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়।

আক্রান্ত বিএলও মনোবর হোসেনের দাবি, শনিবার নোটিস বিলির কাজ প্রায় শেষের পথে ছিল। প্রায় ২০০টি নোটিসের মধ্যে মাত্র পাঁচটি বাকি ছিল। সেগুলি বিলি করতেই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় স্থানীয় দুই দুষ্কৃতী তাঁর উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মাথা ও কানে গুরুতর আঘাত পান মনোবর। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে শয্যাশায়ী অবস্থায় মনোবর হোসেন বলেন,“আমার বুথে প্রায় ২০০ জনের হিয়ারিং নোটিস এসেছে। বেশিরভাগ নোটিস দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। মাত্র পাঁচটা বাকি ছিল। সেগুলো দিতে বেরিয়েছিলাম। তখনই দুই দুষ্কৃতী ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার উপর হামলা করে। বিএলও হিসাবে আমাকে পছন্দ না হওয়াতেই এই মারধর। থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।” তিনি আরও বলেন,“বিএলওর কাজ করতে গিয়ে যদি প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে, তাহলে এই দায়িত্ব পালন করা কঠিন। বিষয়টি জয়েন্ট বিডিওর সঙ্গে আলোচনা করব।”

যদিও পুলিশ প্রশাসনের তরফে দেওয়া প্রাথমিক ব্যাখ্যা অন্যরকম। দিনহাটার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) ধীমান মিত্র জানিয়েছেন,“বাইক জোরে চালানোকে কেন্দ্র করে বচসা হয়েছিল। সেই বচসা থেকেই মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।”তিনি আরও জানান,“প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার সঙ্গে নির্বাচনী কাজ বা এসআইআর প্রক্রিয়ার কোনও সরাসরি যোগ পাওয়া যায়নি। তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হামলার সঙ্গে কি ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কোনও যোগ রয়েছে? যদিও পুলিশ প্রাথমিকভাবে তা মানতে নারাজ, তবে আক্রান্ত বিএলও নিজেই স্পষ্ট করে বলেছেন, বিএলও হিসাবে তাঁকে পছন্দ না হওয়াতেই হামলা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজ্য জুড়ে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের আওতায় বহু বুথে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ও আনম্যাপড ভোটারদের হিয়ারিং প্রক্রিয়া চলছে। এই কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিএলওদের বাড়ি বাড়ি নোটিস বিলি করতে হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে একজন বিএলওর উপর হামলার অভিযোগ প্রশাসনিক মহলেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়াতেই গিতালদহ এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি একজন বিএলও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে কীভাবে এই প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে?

এদিকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী ধরনের ধারা দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রয়োজনে ঘটনার সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার যোগ রয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।

ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল প্রশাসনিক কাজের মাঝেই এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে  মাঠে থাকা বিএলওদের নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত? যদিও পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে ব্যক্তিগত বচসাজনিত ঘটনা বলেই দেখছে, তবুও আক্রান্ত বিএলওর অভিযোগ এবং সময়কাল দুই মিলিয়ে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *