জয়ী হয়েই টলিউডের ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙার ডাক রুদ্রনীলের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে গেরুয়া আবির উড়িয়ে জয়ের স্বাদ পেতেই স্বমহিমায় রুদ্রনীল ঘোষ। হাওড়াবাসীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তাঁর তীরের ফলা এবার সরাসরি টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়ার দিকে। টলিউডের দীর্ঘদিনের ‘নিষিদ্ধ ফাঁড়া’ বা বয়কট সংস্কৃতি নিয়ে নাম করে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ এবং বিদায়ী শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানালেন নবনির্বাচিত এই বিধায়ক।
সাম্রাজ্য খতমের হুঙ্কার
বিপুল জয়ের পর রুদ্রনীল স্পষ্ট ভাষায় জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূলের ‘লুঠের প্রাসাদ’ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। টলিউডের অন্দরে চলা দাদাগিরি প্রসঙ্গে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য,“ভগবান রামচন্দ্রের আশীর্বাদে আর লড়াকু কর্মীদের পরিশ্রমে তৃণমূলের সাম্রাজ্য খতম। তৃণমূলকেই যখন মানুষ ব্যান করে দিয়েছে, সেখানে আর ব্যান কালচার চলবে কী করে?”
অনির্বাণ-ঋদ্ধি প্রসঙ্গ ও ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’
সাম্প্রতিক অতীতে অনির্বাণ ভট্টাচার্য বা ঋদ্ধি সেনের মতো প্রতিভাবান শিল্পীদের যে অলিখিত নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছিল, তা নিয়ে সরব হন রুদ্রনীল। অনির্বাণের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন,“অনির্বাণ সনাতনের বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু সে তো যোগ্য! যোগ্যতা থাকলে কাজ পাবেই। অনির্বাণ একা নয়, প্রচুর টেকনিশিয়ান, প্রযোজক ও পরিচালককে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই বিশ্বাস ভাইদের শোষণে।” রুদ্রনীল আরও মনে করিয়ে দেন, ২০২১ সালে যখন তাঁকে (রুদ্রনীলকে) বয়কট করার ডাক দিয়ে টেকনিশিয়ানদের কালো ব্যাজ পরানো হয়েছিল, তখন যাঁরা চুপ ছিলেন, তাঁদের ঘরেই পরে আগুন লেগেছে। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই টলিউডে এই শোষণের সিলেবাস চলত।
“যোগ্যতার নিরিখে কাজ হবে”
টলিউডে নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখিয়ে শিবপুরের হবু বিধায়ক প্রতিশ্রুতি দেন:
যোগ্যতাই শেষ কথা: কোনো রাজনৈতিক রঙ নয়, শিল্পী বা কলাকুশলীরা কাজ পাবেন শুধুমাত্র তাঁদের যোগ্যতার নিরিখে।
দুর্নীতির ইতি: চাকরিক্ষেত্রে যেমন ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের নিয়োগ করা হয়েছে, টলিউডেও সেই ছক চলত বলে দাবি তাঁর। এবার সেই প্রথা বন্ধ হবে।
সর্বস্তরে বদল: সিনেমা ছাড়াও থিয়েটার, যাত্রা এবং শিল্পের প্রতিটি শাখায় স্বচ্ছতা ফেরানোর অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
সবশেষে রুদ্রনীল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ হৃদয়ের গোপনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে লড়াইটা লড়ছিলেন, আজ তার জয় হয়েছে। টলিউডের স্টুডিওপাড়ায় এখন বদলের হাওয়া কতটা জোরালো হয়, সেটাই দেখার।
