আজকের দিনেতিলোত্তমা

সপ্তম পে কমিশনে সিলমোহর দিল শুভেন্দু সরকার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ক্ষমতা দখলের মাত্র ৯ দিনের মাথায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সরকারি কর্মীদের বহুল প্রতীক্ষিত সপ্তম পে কমিশন চালুর বিষয়ে সিলমোহর দেওয়া হলো। নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এই মেগা সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।

​সদ্য সমাপ্ত ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার মঞ্চ থেকে পদ্ম শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করা হবে। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বাংলায় ঐতিহাসিক পালাবদল ঘটে। এরপর ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। আর শপথ গ্রহণের ঠিক ৯ দিনের মাথায়, মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকেই সেই বড় প্রতিশ্রুতি পূরণ করল নতুন সরকার।
​তবে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল জানিয়েছেন, সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, এদিনের বৈঠকে বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে নতুন করে কোনও আলোচনা হয়নি।

​সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি নতুন পে কমিশন গঠন করে থাকে। রাজ্যে পূর্বতন সরকারের আমলে গঠিত ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ফলে নতুন পে কমিশন চালুর সিদ্ধান্ত সরকারি মহলে ব্যাপক খুশির হাওয়া নিয়ে এসেছে।
​মন্ত্রিসভার এই সবুজ সংকেতের পর এখন রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির অঙ্ক নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পে কমিশনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ ।
​সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: কেন্দ্র ও রাজ্যের বেতনের সামঞ্জস্য বজায় রাখলে এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৯১ থেকে ৩.১৫-এর মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
​বেতনের সম্ভাব্য পরিবর্তন: এই হিসাব কার্যকর হলে, বর্তমানে রাজ্যে যে সরকারি কর্মচারীর মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা, নতুন পরিকাঠামোয় তা একলাফে বেড়ে ৫২,০০০ থেকে ৫৬,০০০ টাকার মধ্যে পৌঁছে যেতে পারে।
​ডিএ ক্ষতে প্রলেপ, সরকারি মহলে খুশির হাওয়া
​বিগত কয়েক বছর ধরে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের আন্দোলন এবং ক্ষোভ ছিল চরমে। নির্বাচনের ঠিক আগে পূর্বতন সরকার ডিএ বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও, তা সব কর্মচারীর কাছে পৌঁছায়নি। নির্বাচনের ঠিক পরপরই শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোক রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সেই ক্ষতে বড়সড় প্রলেপ দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীর ভাগ্য খুলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *