আজকের দিনেবিশ্ব

অর্ধশতাব্দী পর ফের চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ- নীল আর্মস্ট্রংয়ের সেই ঐতিহাসিক পদার্পণের প্রায় ৫০ বছর পর ফের চাঁদের মাটিতে মানুষ পাঠাতে চলেছে আমেরিকা। নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের অংশ হিসেবে বুধবার (মার্কিন সময় অনুযায়ী) চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেবে ওরিয়ন মহাকাশযান। কিন্তু মহাকাশ গবেষণার এই অভাবনীয় সাফল্যের মুহূর্তেও সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদাসীনতা।

নাসার সূচি অনুযায়ী, ১ এপ্রিলই এই মহাকাশযানের উৎক্ষেপণ হওয়ার কথা। ওরিয়ন মহাকাশযানের ভেতরে থাকবেন চারজন নভশ্চর, যাদের মধ্যে তিনজন আমেরিকার এবং একজন কানাডার নাগরিক। আবহাওয়া বা অন্য কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত উৎক্ষেপণের সময়সীমা রাখা হয়েছে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোর চারটে নাগাদ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি প্রত্যক্ষ করা যাবে। দীর্ঘ কয়েক দশক পর নাসা মানববাহী মহাকাশযান পাঠালেও সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে কেন এই উৎসাহের অভাব, তা নিয়ে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে:

আর্থিক সংকট ও অগ্রাধিকার: সাধারণ মানুষ মনে করছেন, কোটি কোটি ডলার মহাকাশ অভিযানে খরচ না করে সেই অর্থ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ব্যয় করা বেশি জরুরি।

রাজনৈতিক বিভাজন: আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দৈনন্দিন জীবনের ক্রমবর্ধমান সমস্যা মহাকাশ গবেষণার রোমাঞ্চকে ফিকে করে দিয়েছে।

পুরনো চমক: ১৯৬৯ সালে চাঁদে প্রথমবার মানুষ যাওয়ার যে শিহরণ ছিল, প্রযুক্তির এই চরম উন্নতির যুগে তা অনেকটাই ম্লান। মানুষের চাঁদে যাওয়া এখন আর সাধারণ নাগরিকের কাছে কোনো ‘বিস্ময়’ নয়, বরং এটি একটি স্বাভাবিক বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া মাত্র।

নাসার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা থাকলেও, অদূর ভবিষ্যতে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েও খুব একটা আশাবাদী নন মার্কিন জনতা। আমজনতার কাছে এই মুহূর্তে মহাকাশ বিজয়ের চেয়ে নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষাই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে একবিংশ শতাব্দীর এই মহাকাশ রেস বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাধারণ মানুষের কাছে তা অনেকটাই জৌলুসহীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *