Nadia-School-Jai Hind : নদিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোল কলের সময় ‘জয় হিন্দ’ বলার নতুন রেওয়াজ ……
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- নদিয়ার সীমান্তবর্তী মুরুটিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবার রোল কল শুরু হতেই পড়ুয়ারা বলে ‘জয় হিন্দ’। আর কেউ ‘ইয়েস স্যর’ বা ‘ইয়েস ম্যাম’ বলে না। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির সব পড়ুয়ার মধ্যে এই অভ্যাস ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গেছে।
স্কুলের শিক্ষকরা জানান, এই অভ্যাস ২০২৪ সাল থেকে শুরু। মূলত হরিয়ানার স্কুলশিক্ষা দপ্তর ২০২৪-এ একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল স্কুলে কারও সঙ্গে দেখা হলে ‘সুপ্রভাত’ নয়, সম্ভাষণ করতে হবে ‘জয় হিন্দ’ বলে। উদ্দেশ্য ছিল, শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী ভাব জাগানো।
মুরুটিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই রেওয়াজ কিভাবে এল, সে প্রসঙ্গও আছে। শিক্ষক সম্পদ ধরের কথায়, “আমাদের এলাকায় ‘নেতাজিয়ান’ নামে একটি সংগঠন আছে। বছর দুয়েক আগে তাঁরা স্কুলে এসেছিলেন এবং এই উদ্যোগের কথা বলেছিলেন। প্রস্তাবটি আমাদেরও মনে ধরেছিল। পড়ুয়ারাও খুশি। উপরি পাওনা, নেতাজিকে নিয়ে তাঁদের আগ্রহ ক্রমে বেড়েই চলেছে।”
নেতাজি দিবসে একই সংগঠন মুরুটিয়ার পাশাপাশি বালিয়াডাঙা হাইস্কুল, মহিষবাথান মনোজমোহন বিদ্যামন্দির এবং বালিয়াডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ হাজির হয়েছিল। সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জিৎ দত্ত ও প্রসেনজিৎ পাল বলেন, “নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আরও চর্চা জরুরি। তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমাদের এই উদ্যোগ।”
বালিয়াডাঙা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অসিত পাল বলেন, “আমাদের স্কুলে সবার সঙ্গে আলোচনা করে খুব শিগগির এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
‘জয় হিন্দ’ শব্দটির উৎসও ঐতিহাসিক। নেতাজির আত্মীয় কৃষ্ণা বসু-এর লেখা থেকে জানা যায়, নেতাজির সঙ্গী আবিদ হাসান প্রায় তিন মাস নেতাজির সঙ্গে ছিলেন। একদিন নেতাজি আবিদকে বলেন, “ভারতীয়রা নিজেদের মধ্যে সম্ভাষণ করতে পারে এমন শব্দবন্ধ খুঁজে বের করো।”
আবিদ লক্ষ্য করেছিলেন যে রাজপুত রাইফেলসের জওয়ানরা দেখা হলে বলেন—‘জয় রামজি কি’। সেখান থেকে তাঁর মাথায় খেলে ‘জয় হিন্দুস্তান কি’, ছোট করে করলে ‘জয় হিন্দ-কি’, যা শেষ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত হয়ে দাঁড়ায় ‘জয় হিন্দ’। নেতাজি ও তাঁদের বাহিনী শব্দটি খুব পছন্দ করেছিলেন।
এভাবে এখন নদিয়ার প্রান্তিক স্কুলের পড়ুয়ারা দিনের শুরুতে শুধু রোল কলেই নয়, দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের ছোট্ট বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে ‘জয় হিন্দ’।
