‘ভারত শান্তির পক্ষে’, জি-৭-এর ফাঁকে জেলেনস্কিকে বার্তা মোদির
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারতের অবস্থান বরাবর শান্তির পক্ষে। ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ফের সেই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার উপর জোর দিলেন তিনি।
ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। বৈঠকের পর এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ হল। সাম্প্রতিক অতীতে ভারত ও ইউক্রেনের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক নিয়েই আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধের আগে যেমন বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল, সেটা ফিরিয়ে আনতে আমরা সহমত। আমি মনে করিয়ে দিয়েছি, ভারত সবসময়ে শান্তির পক্ষে। মানবতাকে সমস্তকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে।’
সূত্রের খবর, এবারের জি-৭ সম্মেলনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনকে আরও বেশি অস্ত্র দিতে রাজি হয়েছে এই মঞ্চ। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক মহলের অনুমান, মোদির মাধ্যমে জেলেনস্কিকে বার্তা পাঠাতে চাইছে মস্কো। আবার জি-৭-এর বার্তা রাশিয়ার কাছে পৌঁছে দেবেন মোদি, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভারত চায়, মধ্যপ্রাচ্যের মতো রাশিয়া-ইউক্রেনও আলোচনার টেবিলে বসুক। কূটনীতির মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হোক। যুদ্ধক্ষেত্রে কখনও স্থায়ী সমাধান মেলে না, এই বিদেশনীতিতেই বিশ্বাসী দিল্লি। সেই অবস্থান থেকেই দুই দেশকে বারবার আলোচনায় বসার বার্তা দিয়েছে ভারত।
বিশ্লেষকদের মতে, মোদির মধ্যস্থতায় যদি মস্কো ও কিভ আলোচনায় বসে, তবে তা হবে ভারতের বিরাট কূটনৈতিক জয়। ভারসাম্যের খেলা খেলে দিল্লি যদি এই যুদ্ধ বন্ধের রাস্তা খুলে দিতে পারে, তাহলে আন্তর্জাতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা যাবে। মোদি কি সত্যিই মস্কো-ওয়াশিংটনের ‘সেতু’ হয়ে উঠতে পারবেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।
