তথ্য বিভ্রাটে মেলেনি ‘হোম ভোটিং, ভোট দিতে বুথে হাজির শতায়ু বৃদ্ধ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, পূর্ব বর্ধমান:- বয়স ১০৪। দেখেছেন পরাধীন ভারতের ব্রিটিশ শাসন, অংশ নিয়েছেন ভারত ছাড়ো আন্দোলনে। স্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচন থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি ভোটেই অংশ নিয়েছেন তিনি। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের এক অদ্ভুত আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়তে হলো জামালপুরের শেখ ইব্রাহিমকে। শেষ পর্যন্ত ‘হোম ভোটিং’-এর সুবিধা না পেয়ে সশরীরে বুথে এসেই ভোট দিলেন এই শতায়ু বৃদ্ধ।
লড়াই যখন নাগরিকত্বের
পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের বত্রিশবিঘা গ্রামের বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিম। পরিবারের দাবি, ১৩২৯ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে তাঁর জন্ম। জীবনের এক শতাব্দীরও বেশি সময় পার করার পর হঠাৎই তাঁর নামে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির নোটিশ আসে। সশরীরে ব্লকের বিডিও অফিসে শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁকে। পরে অবশ্য প্রবল বিতর্কের মুখে বাড়িতেই তাঁর শুনানি হয় এবং যাবতীয় নথিপত্র যাচাই করা হয়।
কেন হলো না ‘হোম ভোটিং’?
এসআইআর (SIR) তালিকায় দীর্ঘ সময় ‘বিচারাধীন’ থাকার পর প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হয়। তবে ভোটার তালিকায় নাম উঠলেও প্রশাসনের ভুলে ‘হোম ভোটিং’ বা বাড়িতে বসে ভোট দেওয়ার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান তিনি। ফলে নির্বাচন কমিশন বাড়ি গিয়ে তাঁর ভোট গ্রহণ করতে পারেনি।
শেষমেশ বুথেই ভোটাধিকার প্রয়োগ
প্রবীণ এই ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে অবশেষে বুধবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাড়ি পাঠানো হয়। সেই গাড়িতে চড়েই বত্রিশ বিঘা প্রাথমিক স্কুলের ১৩৮ নং বুথে পৌঁছান তিনি। বার্ধক্যের ভার শরীরে থাকলেও, জেদ ছিল মনে। বুথে এসে নিজের ভোট দিয়ে বেরিয়ে শেখ ইব্রাহিম প্রমাণ করলেন, শত প্রতিকূলতাও তাঁর গণতান্ত্রিক চেতনাকে দমাতে পারেনি।
ভারত ছাড়ো আন্দোলন থেকে হাওড়া ব্রিজের নির্মাণ— যাঁর চোখের সামনে ইতিহাসের এত বিবর্তন, জীবনের শেষ বেলায় এসে তাঁকে ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য যে কাঠখড় পোড়াতে হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেই উঠছে প্রশ্ন। তবে সমস্ত ‘বিভ্রাট’ কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পেরে খুশি শতায়ু এই বৃদ্ধ।
