শুভ জন্মদিন মহাগুরু: মিঠুন চক্রবর্তীর বর্ণাঢ্য জীবনের কিছু অজানা গল্প।
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- ১৬ জুন মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিন। বয়স স্রেফ একটি সংখ্যা মাত্র। আজও তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে প্রেক্ষাগৃহে করতালির ঝড় ওঠে। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে যখন একজন অভিনেতা বছরে দু-তিনটি ছবির বেশি করার কথা ভাবতেই পারেন না, তখন মিঠুন চক্রবর্তীর ক্যারিয়ারের মধ্যগগনের হিসেব ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তাঁর নাম ‘লিমকা বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কারণ, বিশ্বজুড়ে তিনিই একমাত্র অভিনেতা যাঁর একটি বছরে ১৯টি ছবি মুক্তি পেয়েছিল। সেই সময়ে তিনি প্রায় ৬৫টি ছবির শুটিং ফ্লোরে নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং প্রতিদিন শিফট বদলে বদলে এক সেট থেকে অন্য সেটে কাজ করতেন।
নিজের ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথচলায় তিনি এ পর্যন্ত প্রায় ৩৮০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এবং আজও তাঁর এই যাত্রা থেমে নেই। বর্তমানে তিনি সংখ্যার জন্য নয়, বরং নিজের ভালোলাগা ও মনের আনন্দে অভিনয় করেন। ভিন্ন ঘরানার বেশ কয়েকটি বড় প্রজেক্টে দেখা গিয়ছে তাঁকে। দক্ষিণী সুপারস্টার প্রভাসের সঙ্গে একটি দেশাত্মবোধক গল্পের ছবি ‘ফৌজি’, মেগাস্টার রজনীকান্তের ব্লকবাস্টার ছবি ‘জেলার ২’ এবং দেবের সঙ্গে সুপারহিট বাংলা ছবি ‘প্রজাপতি’-র সিক্যুয়েল অর্থাৎ ‘প্রজাপতি ২’। মিঠুনের কথায়, “তিনটি ছবির চরিত্রই একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, আর কাজগুলো করতে আমার বেশ সহজই লেগেছে।”
জন্মদিনের এই বিশেষ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে মহাগুরুর এই দাপুটে মনোভাবই প্রমাণ করে দেয়—সিনেমার দুনিয়ায় ‘জিমি’র ম্যাজিক চিরন্তন, তিনি কালও রাজা ছিলেন, আজও রাজাই আছেন।
মিঠুন চক্রবর্তীর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধু মমতা শঙ্কর এক স্মৃতিচারণায় জানান, মিঠুন চক্রবর্তীর প্রথম বাংলা ছবি ‘নদী থেকে সাগরে’-তে তাঁদের একসাথে আলাপ হয়। সে সময় মিঠুনদার মতো সুপুরুষ নায়কের বিপরীতে কাজ করতে গিয়ে কিশোরী বয়সে তিনি বেশ উত্তেজিত ছিলেন। কেবল সহকর্মী হিসেবেই নয়, মিঠুনদার পরিবারের সঙ্গেও তাঁর সুগভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। মিঠুনদার সহজাত দুষ্টুমি, বুদ্ধি এবং সহকর্মীদের মাতিয়ে রাখার ক্ষমতা চিরকালই অনবদ্য। রামোজি ফিল্ম সিটিতে ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’-এর শুটিংয়ের সময় তাঁর দুষ্টুমি ও সাপ নিয়ে মজার স্মৃতি আজও অম্লান।
ব্যক্তিজীবনে মিঠুন চক্রবর্তীর সরলতা ও প্রাণশক্তি অটুট। তাঁর মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম ছিল অত্যন্ত কঠিন। একজন বাঙালি হয়ে মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিতে শীর্ষস্থান দখল করা এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করা চাট্টিখানি কথা নয়। মিঠুনদার এই সাফল্যের পেছনে তাঁর মায়ের ত্যাগের কথাও উঠে আসে, যিনি ছেলের প্রতিষ্ঠার জন্য এক বছর মৌনব্রত পালন করেছিলেন। কাজের বাইরে একজন মানুষ হিসেবেও তিনি চিরযুবক ও প্রাণশক্তিতে ভরপুর। চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁকে ব্রাত্য রাখা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্ক তৈরি হলেও, তিনি বরাবরই এসব বিষয়কে ছোটখাটো বলে এড়িয়ে গিয়েছেন এবং নিজের স্বভাবসুলভ হাসিতেই সবকিছু জয় করেছেন। আজও তিনি কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে চলেছেন যে, রুপালি পর্দার ‘জিমি’র ম্যাজিক চিরন্তন, তিনি অতীতেও রাজা ছিলেন এবং আজও রাজাই আছেন।
