রেকর্ডের মুকুটে গীতার বাণী, বাঁকুড়ার সোমার অনুবাদে বিশ্বস্বীকৃতি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- রেকর্ডের মুকুট মাথায়, হাতে গীতার বাণী। বাঁকুড়া শহরের তরুণী সোমা চৌনী বাংলা ভাষায় ভগবদগীতা-র অনুবাদ করে জাতীয় ও বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি পেয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তবে তাঁর কাছে এ কেবল পুরস্কারের গল্প নয়, বরং এক গভীর অন্তরযাত্রার কাহিনী।
নূতনগঞ্জের বাসিন্দা সোমা জানালেন, জীবনের এক অনিশ্চিত সময়েই তিনি গীতার আশ্রয় নিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য এলেও মানসিক টানাপোড়েন তাঁকে নাড়া দিয়েছিল। সেই সময় গীতার শ্লোক ও দর্শন তাঁকে স্থির থাকতে শিখিয়েছে। তাঁর কথায়, “গীতা আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে ফলের চিন্তা ছেড়ে কর্তব্যে মন দিতে হয়। তখনই মনে হয়েছিল, এই শক্তিটুকু সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া দরকার।”
সেখান থেকেই শুরু প্রায় সাড়ে তিন বছরের নিরবচ্ছিন্ন সাধনা। বর্তমানে একটি কলেজের অধ্যাপিকা সোমা। পড়ানোর পাশাপাশি প্রতিদিন সময় বের করে শ্লোক থেকে সহজ বাংলায় ভাষান্তরের কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। তিনি জানান, অনুবাদের সময় বহু জায়গায় থমকে যেতে হয়েছে। “অনেক শ্লোকের গভীর অর্থ বুঝতে একাধিক ভাষ্য ও রেফারেন্স বই ঘেঁটেছি। বিভিন্ন মত মিলিয়ে নিশ্চিত হয়েই সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় লিখেছি,” বলেন তিনি।
তাঁর অনুবাদে বিশেষভাবে উঠে এসেছে গীতার বহুল উচ্চারিত বাণীগুলি ‘কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন’, যেখানে কর্মকে প্রাধান্য দেওয়ার শিক্ষা; ‘যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত’, যা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার বার্তা দেয়; এবং ‘সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ’, যা আত্মসমর্পণ ও বিশ্বাসের শক্তিকে তুলে ধরে। সোমার মতে, এই শ্লোকগুলি শুধু ধর্মীয় মন্ত্র নয়, জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে পথ দেখানোর দিশারি।
সোমার বাবা, অবসরপ্রাপ্ত গণিত শিক্ষক অজিতকুমার চৌনী বলেন, “ওর কাজে নিষ্ঠা আর অধ্যবসায় স্পষ্ট। রেকর্ডের সম্মান অবশ্যই বড় প্রাপ্তি, কিন্তু তার থেকেও বড় হল গীতার ভাবকে সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা।”
বাঁকুড়ার এই তরুণ শিক্ষিকার কলমে গীতার চিরন্তন বাণী পেল নতুন ভাষা, নতুন পাঠক। পুরস্কারের ঊর্ধ্বে উঠে সোমার এই প্রচেষ্টা যেন প্রমাণ করে অন্তরের শক্তিই বড়, আর সেই শক্তির উৎস যদি হয় গীতা, তবে পথ চলা আরও দৃঢ় হয়।
