আজকের দিনেভারত

মধ্য প্রাচ্যে যুদ্ধের ফলে দালাল স্ট্রিটে ধস

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য! সেই আগুনের তাপে তেতে উঠেছে শেয়ার বাজারও। সপ্তাহের প্রথম দিন বাজার খুলতেই সেনসেক্স পড়ে যায় দু ‘হাজার পয়েন্টেরও বেশি। কেবল ভারত নয়, বিশ্বের সব প্রান্তের শেয়ার বাজারেরই বেহাল দশা। শেষ ক্লোজিংয়ের থেকে লোয়ার পয়েন্টে এ দিন বাজারের ওপেনিং হয়। শেষ ক্লোজিংয়ের থেকে প্রায় ৩.৩৪ শতাংশ বা ২,৭৪৩ পয়েন্ট লোয়ারে ওপেনিং হয় সেনসেক্সের। নিফটি৫০-র ওপেনিং হয় ২ শতাংশের বেশি বা ৫০০ পয়েন্ট লোয়ারে। যদিও এই ক্ষতের গভীরতা অল্প সময়ের মধ্যেই কমেছে। সাড়ে ৯টায় সেনসেক্স রয়েছে ৯৮৪ পয়েন্ট লোয়ারে এবং নিফটি৫০ রয়েছে ২৭১ পয়েন্ট লোয়ারে। সেই সঙ্গে পড়েছে টাকার দাম। যুদ্ধের সময়ে চড়চড়িয়ে বাড়ছে তেলের দাম।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনদিন ধরে লাগাতার আক্রমণ চলছে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে। তার প্রভাব দালাল স্ট্রিটে পড়বে তা জানাই ছিল। কিন্তু বাজার খুলতেই সেনসেক্স এবং নিফটি এতখানি নেমে যাবে, আন্দাজ করতে পারেননি বিনিয়োগকারীরা। সেনসেক্স ও নিফটি৫০-র পাশাপাশি শেয়ার বাজারে অধিকাংশ সেক্টরাল ইনডেক্স ডাউন রয়েছে সোমবার সকাল থেকেই। কেবল নিফটি ইন্ডিয়া ডিফেন্স এবং নিফটি মেটাল পজিটিভে রয়েছে। বাকি ইনডেক্সগুলির মধ্যে ইন্ডিয়া ট্যুরিজম, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, রিয়েলটি, এনার্জির মতো সেক্টরাল ইনডেক্সের পয়েন্ট কমেছে সবচেয়ে বেশি। সোমবার ৪০০ পয়েন্ট পড়ে যায় মার্কিন শেয়ার বাজার। জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার পড়ে গিয়েছে ২ থেকে ৩ শতাংশ পয়েন্ট। হংকং, চিনের বাজারেও হতশ্রী দশা। যুদ্ধের আবহে আবু ধাবি এবং দুবাইয়ের বাজার আগামী দু’দিন বন্ধ থাকবে বলে জানা গিয়েছে। যুদ্ধের বাজারে চড়চড়িয়ে বাড়ছে তেলের দামও। আগামী দিনে হরমুজ প্রণালী যদি পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে তেলের দাম আকাশ ছোঁবে। তাতে ভারতের সমস্যা আরও বাড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত বড় লাভের আশা না করাই ভালো। খুব সতর্ক থেকে ট্রেডিং করতে হবে। তবে হুড়মুড় করে শেয়ার বিক্রি করে ফায়দা তোলাটাও খুব একটা লাভজনক হবে না। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। ব্রেন্ট ক্রুডে প্রতি ব্যারেলের দাম ৮২ ডলার ছাড়িয়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম ৭৫ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। সেই সঙ্গে ভারতীয় মুদ্রার দামেও পতন হয়েছে সোমবার। ইউএস ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় রুপির বিনিময়দর ৯১ পেরিয়েছে। এই সব বিভিন্ন কারণের জেরেই শেয়ার বাজারে ধস বলে মত বিশ্লেষকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *