Blackmail : ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে ইউটিউবার সহ দুইজন গ্রেফতার, কান্নায় ভেঙে পড়লেন কাউন্সিলর মৌসুমি বিশ্বাস !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিজস্ব প্রতিনিধি:- হুগলির উত্তরপাড়া-কোতরং পৌরসভা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য।এই ঘটনায় সরাসরি অভিযোগ করেছেন উত্তরপাড়া কোতরং পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৌসুমি বিশ্বাস। ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায়ের অভিযোগে এক ইউটিউবার-সহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলরের উপর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। উত্তর পাড়ার বাসিন্দা শুভজ্যোতি চক্রবর্তী নামে এক ইউটিউবার ফোন কল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভয় দেখিয়ে এক লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য বারবার চাপ সৃষ্টি করে। অভিযোগ, টাকা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা হবে এবং জনসমক্ষে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।মৌসুমি বিশ্বাস দাবি করেছেন, তাঁর বাড়ির পুকুরের একটি অংশ ভরাট নিয়ে অভিযোগ তুলে, বিষয়টিকে হাতিয়ার করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাঁকে মৃত্যুর হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে মিটিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ক্রমাগত এই চাপ এবং হুমকির কারণে কান্নায় ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন কাউন্সিলর। শেষ পর্যন্ত তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং নিজের কাছে থাকা একাধিক অডিও রেকর্ডিং ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিষয়টি সহ্য করলেও যথেষ্ট প্রমাণ না থাকায় অভিযোগ জানাতে পারেননি।ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে তিনি বলেন, আমি তিন বছরের কাউন্সিলার। আমার স্বামী সরকারি চাকরি করেন, আমি কলেজে পড়াই, আমার ছেলেও প্রতিষ্ঠিত, স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেন তিনি। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে জনসেবার সঙ্গে যুক্ত কিন্তু কেউ কোনদিনও আমার বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলতে পারবে না।তাঁর দাবি, তিনি সবসময় স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং এই ধরনের ব্ল্যাকমেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন পুলিশকে।
অন্যদিকে, তার অভিযোগ স্থানীয় কিছু নেতাকে এবং পৌরসভার চেয়ারম্যান কে বিষয়টি জানালেও কোনরকম কোন সাহায্য পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হতে হন তাকে। ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও একজনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি অর্ণব বিশ্বাস (শ্রীরামপুর) পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে ,যে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতারি হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
