আজকের দিনেভারত

প্রচুর মানুষের ফোনে হঠাৎ জরুরি অ্যালার্ট, কিসের সঙ্কেত?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নয়া দিল্লি: শনিবার সকালে হঠাৎই দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ নাগরিকের মোবাইল ফোনে তীব্র শব্দে বেজে ওঠে এক বিশেষ সতর্কবার্তা। ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ‘এক্সট্রিমলি সিভিয়ার অ্যালার্ট’। মুহূর্তের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া বা ‘ড্রাই রান’ ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় কোনো বিপদ থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘সেল ব্রডকাস্ট’ ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালানো হলো এদিন।

শাহ-জ্যোতিরাদিত্যর হাত ধরে নয়া সূচনা

শনিবার, ২ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় কমিউনিকেশন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া যৌথভাবে এই আধুনিক পরিষেবাটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ পাঠানো এই পরীক্ষামূলক মেসেজের প্রেক্ষিতে নাগরিকদের কোনো পদক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই। মূলত বড় কোনো বিপদের সময় মানুষের প্রাণ বাঁচাতে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর, তা যাচাই করতেই এই উদ্যোগ।

‘সচেত’ (SACHET) প্ল্যাটফর্মের জাদু

এই পুরো ব্যবস্থার নেপথ্যে রয়েছে ‘SACHET’ নামক একটি ইন্টিগ্রেটেড অ্যালার্ট সিস্টেম।

  • প্রস্তুতকারক: ভারত সরকারের টেলিকম বিভাগের গবেষণা সংস্থা ‘সি-ডট’ এটি তৈরি করেছে।

  • আন্তর্জাতিক মান: আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থার সুপারিশ মেনে এটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

  • ব্যাপ্তি: বর্তমানে দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই ব্যবস্থাটি কার্যকর করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ১৯টিরও বেশি ভাষায় ১৩৪ বিলিয়নের বেশি সতর্কবার্তা পাঠিয়ে নজির গড়েছে।

সাধারণ এসএমএস-এর চেয়ে কেন আলাদা?

এই নতুন ‘সেল ব্রডকাস্ট’ প্রযুক্তি সাধারণ মেসেজের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও উন্নত। ১. শব্দ সংকেত: এই সতর্কবার্তা ফোনের ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডকেও অগ্রাহ্য করতে সক্ষম। তীব্র শব্দের মাধ্যমে এটি ব্যবহারকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ২. স্ক্রিন অ্যালার্ট: মোবাইলের স্ক্রিনের ওপর স্পষ্টভাবে বার্তাটি ফুটে ওঠে, যা এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। ৩. দ্রুত গতি: প্রচলিত এসএমএস ব্যবস্থার চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে এটি কোটি কোটি ফোনে একসাথে পৌঁছে যেতে পারে।

কোন কোন ক্ষেত্রে মিলবে সুরক্ষা?

ভূমিকম্প, সুনামি বা বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানুষের ভুলে ঘটা গ্যাস লিক কিংবা রাসায়নিক দুর্ঘটনার মতো সংকটেও এই ব্যবস্থা জীবনদায়ী ভূমিকা পালন করবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে মুহূর্তের মধ্যে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ আগামী দিনে দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারতের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *