আজকের দিনেবাংলার আয়না

বিধানসভায় কুড়মালি অনুবাদক নেই! শপথ গ্রহণ নিয়ে জটিলতা, ক্ষোভে ফুঁসছেন জঙ্গলমহলের ৫ বিজেপি বিধায়ক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ রাজ্য সরকার কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দিলেও বিধানসভার অন্দরে ব্রাত্যই রয়ে গেল এই ভাষা? অন্তত বিধানসভা সচিবালয়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এমনটাই অভিযোগ তুলছেন জঙ্গলমহলের বিজেপি বিধায়করা। কুড়মালি ভাষার অনুবাদক না থাকায় আসন্ন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নিজেদের মাতৃভাষায় শপথ নিতে পারছেন না ৫ কুড়মি বিধায়ক। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা ও আদিবাসী কুড়মি সমাজের ক্ষোভ।

ঘটনার সূত্রপাত

আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণের দিন ধার্য হয়েছে। জঙ্গলমহলের ৫ বিজেপি বিধায়ক— বিশ্বজিৎ মাহাতো (জয়পুর), জলধর মাহাতো (বলরামপুর), রহিদাস মাহাতো (বাঘমুণ্ডি), রাজেশ মাহাতো (গোপীবল্লভপুর) ও বিমান মাহাতো (শালবনি)— কুড়মালি ভাষায় শপথ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। নিয়ম মেনে তাঁরা বিধানসভা সচিবালয়ে মেইলও করেন। কিন্তু সচিবালয় থেকে পাল্টা জানিয়ে দেওয়া হয়, বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, উর্দু ও সাঁওতালি ভাষার মধ্যেই যে কোনও একটিকে শপথের জন্য বেছে নিতে হবে। কারণ, তালিকায় কুড়মালি ভাষার কোনও অনুবাদক নেই।

তৃণমূলকে তোপ বিধায়কদের

শালবনির বিধায়ক বিমান মাহাতো সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, “তৃণমূল সরকার কুড়মালি ভাষাকে সেকেন্ড অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও সচিবালয়ে অনুবাদকের কোনও ব্যবস্থাই রাখেনি। এটা আসলে একটা ভাঁওতাবাজি। আমরা চেষ্টা করছি সচিবালয়ের সাথে সহযোগিতা করে কুড়মালিতেই শপথ নিতে, কিন্তু সরকারের গাফিলতিতে আজ এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।”

ক্ষুব্ধ কুড়মি সমাজ

সরকারের এই দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো। তিনি বলেন, “২০১৮ সালে নোটিফিকেশন জারি করে ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, অথচ আজ অনুবাদক নেই! এতে সরকারি আদেশনামার গুরুত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এর সঙ্গে কুড়মি আবেগ জড়িয়ে রয়েছে, অবিলম্বে অনুবাদক নিয়োগ করতে হবে।”

নজরে অতীত ইতিহাস

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ঘোরাফেরা করছে ১৯৯১ সালের একটি উদাহরণ। ঝাড়গ্রামের বিনপুর কেন্দ্রের বিধায়ক নরেন হাঁসদা সাঁওতালি অনুবাদক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত শপথ নিতে অস্বীকার করেছিলেন। পরে বিধানসভার অধ্যক্ষ অনুবাদক নিয়োগ করলে তবেই তিনি শপথ নেন। কুড়মি জনজাতির সাধারণ মানুষও দাবি তুলছেন, “ঝাড়খণ্ডে সম্ভব হলে এখানে কেন হবে না? একদিন দেরি হোক, কিন্তু কুড়মালি ভাষাতেই শপথ নিয়ে ইতিহাস তৈরি করতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *