পাল্টে যাচ্ছে কলকাতার পুজোর রং, ‘চেয়ারম্যান’ পদে এবার নতুন মুখ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল কলকাতার দুর্গাপুজোর মণ্ডপে মণ্ডপে। নীল-সাদায় ঘেরা পুজোর ফ্লেক্স আর হোর্ডিং থেকে এবার সরতে চলেছে বিদায়ী তৃণমূল বিধায়কদের নাম। শহরের বড় বড় পুজোর রাশ ছিল যাঁদের হাতে, সেই অরূপ বিশ্বাস, দেবাশিস কুমার কিংবা অতীন ঘোষরা এখন ‘পরাজিত’। ফলে সংসদীয় গণতন্ত্রের নিয়ম মেনে নতুন বিজেপি বিধায়কদের বরণ করে নিতে কোমর বাঁধছেন পুজো কর্তারা।
‘রাজা আসে যায়, উৎসব একই থাকে’
কলকাতার পুজোর মানচিত্রে বড় নাম ‘টালা প্রত্যয়’। কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভায় অতীন ঘোষের পরাজয়ের পর ১০১ বছরে পা রাখা এই পুজোর সাধারণ সম্পাদক শান্তনু ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশাসনিক সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সম্ভব নয়। তাই নতুন জয়ী বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারিকে তাঁরা অবশ্যই আমন্ত্রণ জানাবেন। তাঁদের মতে, পুজো একটি ‘পাবলিক জব’, যেখানে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি অপরিহার্য।
অরূপের বদলে পাপিয়া, দেবাশিসের জায়গায় স্বপন
টালিগঞ্জ বিধানসভায় অরূপ বিশ্বাসের পরাজয় এই পুজো রাজনীতির সমীকরণ আমূল বদলে দিয়েছে। রানিকুঠি এলাকার ঐতিহ্যবাহী নেতাজি জাতীয় সেবাদল-এর ৭৬তম বর্ষের পুজোয় এবার দেখা যেতে পারে বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীকে। পুজোর সভাপতি কৌশিক বণিক জানিয়েছেন, স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে পাপিয়া অধিকারীকে তাঁরা এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেবেন। একই ছবি দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র দেশপ্রিয় পার্কে। রাসবিহারী কেন্দ্রে দেবাশিস কুমারের পরাজয় এবং স্বপন দাশগুপ্তর জয়ের পর ইঙ্গিত মিলেছে যে, পুজোর ফ্লেক্সে এবার নতুন নাম দেখা যাবে। পুজো কর্তারা ইতিমধ্যেই নতুন বিধায়ককে স্বাগত জানাতে আগ্রহী।
পরিবর্তনের হাওয়া উত্তরের পুজোর গলিগুলোতেও
বিখ্যাত কাশী বোস লেন দুর্গাপুজোর চেয়ারম্যান ছিলেন অতীন ঘোষ। জয়ের খবর আসতেই সেখানেও পরিবর্তনের ডঙ্কা বেজে উঠেছে। সূত্রের খবর, পুজোর নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে কর্তারা ইতিমধ্যেই বৈঠকে বসেছেন। সাধারণ সম্পাদক সোমেন দত্তর কথায়, “কুশিতে যেই বসুন, উৎসবের রং চিরকালই আনন্দের।”
নেপথ্য কারণ: প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা
কলকাতার দুর্গাপুজোর সঙ্গে রাজনীতি আর প্রশাসন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। পুলিশি অনুমতি থেকে শুরু করে স্পনসরশিপ— সব ক্ষেত্রেই শাসক শিবিরের বিধায়কদের একটা বড় ভূমিকা থাকে। তাই রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুজো কমিটিগুলো কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। ‘পাওয়ার হাউস’ বদলে যাওয়ায় নিজেদের অস্তিত্ব ও পুজোর জৌলুস বজায় রাখতেই গেরুয়া শিবিরের নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাত ধরতে চাইছেন শহরের অধিকাংশ পুজো উদ্যোক্তা।
শহরের অলিতে গলিতে এখন সাজ সাজ রব। তবে এবারের থিমের লড়াইয়ের আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে ‘নাম’ আর ‘চেয়ার’ বদলের লড়াই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নীল-সাদা ছায়া সরে গিয়ে এবার কলকাতার পুজোয় যে গেরুয়া ছোঁয়া লাগবে, তা সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
