আজকের দিনেতিলোত্তমা

পুলিশের উর্দিতে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ‘বিতর্কিত’ ছবি! কালীঘাট থানার ওসির বিরুদ্ধে কমিশনে তৃণমূল

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ভোট গণনার প্রাক্কালে কালীঘাট থানার ওসির একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস ঘিরে তৈরি হলো বড়সড় বিতর্ক। ওসির পোস্ট করা ছবিটিকে ‘আইনবিরুদ্ধ’ এবং সাধারণ মানুষের জন্য ‘হুমকি’ বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এই পোস্টের ছবি শেয়ার করে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

ঠিক কী রয়েছে ওই বিতর্কিত পোস্টে?

জয়প্রকাশ মজুমদারের অভিযোগ অনুযায়ী, কালীঘাট থানার বর্তমান ওসি গৌতম দাস তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে:

  • তিনি পুলিশের উর্দি পরা অবস্থায় নিজের চেয়ারে বসে আছেন।

  • তাঁর হাতে রয়েছে একটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র।

  • ছবির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘নতুন দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত’।

(দ্রষ্টব্য: এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি কিউ ইন্ডিয়া বাংলা)।

তৃণমূলের অভিযোগ ও আইনি প্রশ্ন

তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলি হলো:

  • নির্দেশিকা লঙ্ঘন: কলকাতা পুলিশের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কর্তব্যরত অবস্থায় কোনো পুলিশকর্তা উর্দি পরে নিজের ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতে পারেন না।

  • হুমকিমূলক ক্যাপশন: ভারত সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, উস্কানিমূলক বা হুমকিমূলক কোনো ছবি বা ক্যাপশন পোস্ট করা নিষিদ্ধ।

  • আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রশ্ন: ওসির হাতে থাকা অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রটি আদৌ তাঁর জন্য বরাদ্দ কি না এবং তিনি সেটি ব্যবহারে প্রশিক্ষিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ওসির বদল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, নির্বাচনী নির্ঘণ্ট চলাকালীনই কালীঘাট থানার ওসির পদে রদবদল ঘটিয়েছিল কমিশন। গত ২৯ মার্চ উৎপল ঘোষকে ওসি করা হলেও, এক মাসের মধ্যেই তাঁকে সরিয়ে গৌতম দাসকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই নতুন ওসির হাতে বন্দুক ধরা ছবি এবং ‘নতুন দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত’—এই বার্তা ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে বইছে বিতর্কের ঝড়।

তৃণমূলের দাবি, এই ছবি সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর একটি কৌশল। এই ‘আপত্তিকর’ কাজের দ্রুত তদন্ত এবং শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে জোড়াফুল শিবির। এখন দেখার, শাসকদলের এই চিঠির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন বা লালবাজার কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয় কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *