আজকের দিনেভারত

মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও সন্তানকে আগলে মাঃ জবলপুর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, জবলপুরঃ ঝোড়ো হাওয়ার দাপট আর নর্মদার উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে যখন ক্রুজটি ডুবছিল, তখন নিজের বাঁচার চেয়ে চার বছরের সন্তানকে রক্ষা করাটাই বড় হয়ে উঠেছিল এক মায়ের কাছে। একটি লাইফজ্যাকেটের ভেতরেই সন্তানকে ঢুকিয়ে নিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে যখন মা ও সন্তানের নিথর দেহ উদ্ধার হলো, দেখা গেল তখনও মায়ের হাত আলগা হয়নি। উদ্ধারকারীদেরও কাঁদিয়ে দিয়েছে এই দৃশ্য।

মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি

বৃহস্পতিবার বিকেলে মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের পর্যটন কেন্দ্র বার্গি বাঁধে একটি ক্রুজ ২৯ জন পর্যটক নিয়ে মাঝ নর্মদায় পৌঁছলে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় ক্রুজটি একপাশে হেলে গিয়ে ধীরে ধীরে তলিয়ে যায়।

  • মোট ৯ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

  • মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ওই মা ও তাঁর চার বছর বয়সী সন্তান।

  • এখনও নিখোঁজ বেশ কয়েকজন পর্যটক, তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি জারি রয়েছে।

উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনিক তৎপরতা

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করে।

  • ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র লোধী এবং বিজেপি বিধায়ক আশিস দুবে।

  • বিধায়ক আশিস দুবে জানিয়েছেন, বেশিরভাগ পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

  • তবে উদ্ধার হওয়া মা ও সন্তানের নিথর আলিঙ্গন দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি খোদ পর্যটনমন্ত্রীও।

গাফিলতির অভিযোগ

জবলপুরের এই বাঁধটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এই দুর্ঘটনার পেছনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

  • প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঝড় শুরু হওয়ার পর পার থেকে চালককে সতর্ক করা হলেও তিনি ক্রুজটি দ্রুত পারে ফিরিয়ে আনতে পারেননি।

  • স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্রুজটিতে পর্যাপ্ত লাইফজ্যাকেট ছিল না।

  • যাঁদের কাছে লাইফজ্যাকেট ছিল, তাঁদের মধ্যে অনেকে ক্রুজের ছাদ জলের নিচে চলে যাওয়ায় ভেতরে আটকে পড়েছিলেন।

রাত্রভর তল্লাশির পর শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৯টি দেহ উদ্ধার হলেও মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। মা ও সন্তানের এই অবিনশ্বর সম্পর্কের সাক্ষ্য হয়ে থাকা দৃশ্যটি দীর্ঘকাল মানুষের মনে থেকে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *