আজকের দিনেতিলোত্তমা

ভোটে বাইক চলাচলে কমিশনের নিষেধাজ্ঞায় ‘কাঁচি’ হাইকোর্টের: ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: নির্বাচনের মুখে সাধারণ মানুষের বাইক চলাচলের ওপর নির্বাচন কমিশনের জারি করা কড়া বিধিনিষেধে বড়সড় পরিবর্তন আনল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। সোমবার বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় আদালত বা কমিশন হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তবে ভোটের আগে শান্তি বজায় রাখতে ‘বাইক র‍্যালি’ বা দলবদ্ধভাবে বাইক চলাচলের ওপর আজ থেকেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে সামান্য রদবদল

এর আগে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ কমিশনের বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দিয়েছিল। কমিশন জানিয়েছিল, জরুরি ক্ষেত্র ছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো যাবে না। সিঙ্গল বেঞ্চ সেই নির্দেশ বাতিল করে বলেছিল, ভোটগ্রহণের ১২ ঘণ্টা আগে থেকে বাইকের পিছনে যাত্রী নেওয়া যাবে না। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় কমিশন। সোমবার শুনানি শেষে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়:

  • ব্যক্তি স্বাধীনতা: জরুরি কাজ বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কেউ বাইক নিয়ে বেরোলে তাতে বাধা দেওয়া যাবে না।

  • গ্রুপ রাইডিং নিষিদ্ধ: ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে দল বেঁধে বা একাধিক বাইক নিয়ে ‘গ্রুপ রাইডিং’ করা যাবে না।

  • বাইক র‍্যালি: রাজনৈতিক প্রচারের জন্য বাইক মিছিলের ওপর আজ থেকেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

বিহার-অসমের উদাহরণ চাইল আদালত

শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন তোলেন, “বিহার বা অসমের নির্বাচনে কি এই ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল? কমিশন যদি এমন উদাহরণ দেখাতে পারে, তবেই এ রাজ্যেও তাদের আবেদন গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।” সেই সঙ্গে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, শুধু বাইক কেন, চারচাকা গাড়ির ক্ষেত্রে কেন একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না?

বিতর্কের মূলে কমিশনের বিজ্ঞপ্তি

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই বাইক মিছিলকে কেন্দ্র করে অশান্তির অভিযোগ উঠছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে কমিশন রাতভর বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। নাগরিক অধিকার খর্ব হওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের হলে আদালত হস্তক্ষেপ করে। ডিভিশন বেঞ্চের বর্তমান নির্দেশে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথ প্রশস্ত হলেও, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাইকের অপব্যবহার রুখতে কড়া অবস্থান নিল হাইকোর্ট।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর স্পষ্ট যে, সাধারণ ভোটার বা নাগরিকরা প্রয়োজনে বাইক ব্যবহার করতে পারবেন, তবে ভোটের আবহে কোনোভাবেই বাইক নিয়ে শক্তি প্রদর্শন বা জটলা পাকানো যাবে না।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *