কমিশন-পুলিশকে তোপ মীনাক্ষীর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কোন্নগর: ভোটের অন্তিম লগ্নে শেষ রবিবাসরীয় প্রচারে কোন্নগর কাঁপালেন উত্তরপাড়ার সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় বিজেপির বিশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে যোগী আদিত্যনাথের ‘বুলডোজার’ রাজনীতি— একাধিক ইস্যুতে এদিন সুর চড়ালেন এই বাম নেত্রী। তাঁর নিশানায় ছিল নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনও।
কমিশন ও পুলিশকে আক্রমণ
ভবানীপুরে মমতার সভায় বিজেপির মাইক বাজিয়ে বাধা দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে মীনাক্ষী বলেন, “নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসন মিলে রাজ্যে একটা অস্থির ও হিংসার রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে।” তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ৪ঠা জুনের পর এই ‘দুষ্কৃতী রাজের’ অবসান ঘটবে এবং বিধানসভায় বাম বিধায়করা গিয়ে কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার সওয়াল করবেন।
যোগী ও বিজেপির ‘বুলডোজার’ নীতি
রাজ্যে প্রচারে এসে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘বুলডোজার’ বার্তার কড়া সমালোচনা করেন মীনাক্ষী। তিনি মনে করিয়ে দেন:
-
বাম আমলের সাফল্য: বামফ্রন্ট সরকার ছিল বলেই বস্তি অঞ্চলের মানুষ জমির পাট্টা পেয়েছিলেন।
-
বিজেপির উচ্ছেদ: বিজেপি শাসিত রাজ্যে লক্ষ লক্ষ বস্তি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ
শনিবার উত্তরপাড়ার জোড়াপুকুর মাঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, আগামী দিনে হিন্দুস্তান মোটরস ও সিঙ্গুরে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব’ তৈরি হবে। এর পালটা মীনাক্ষী প্রশ্ন তোলেন, “১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর কেন এখনও বলতে হচ্ছে হাব ‘তৈরি হবে’? এতদিনে কাজ তো সম্পন্ন হওয়া উচিত ছিল। হিন্দুস্তান মোটরসের জমিতে এখন দুষ্কৃতীদের রাজত্ব চলছে।” তাঁর দাবি, টিটাগড় বাগান কারখানায় হিন্দুস্তান মোটরসের শ্রমিকদের কাজের সুযোগ করে দিতে হবে।
কোন্নগরে বামেদের প্রচার ও তারকা উপস্থিতি
এদিন কোন্নগরে মীনাক্ষীর সমর্থনে একটি বিশাল বাইক র্যালি ও পথসভা করে সিপিআইএম। চটকল মোড়ে আয়োজিত এই সভায় মীনাক্ষীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব সৌরভ পালোধি এবং অভিনেত্রী উষসী চক্রবর্তী। লাল পতাকায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল গোটা এলাকা।
প্রেক্ষাপট: ভবানীপুরে মমতার সভা ভণ্ডুল
উল্লেখ্য, শনিবার ভবানীপুরের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য শুরু করার পরেই সংলগ্ন বিজেপির সভা থেকে মাইকের বিকট আওয়াজ শুরু হয়। বারবার বাধা পাওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী বিরক্তি প্রকাশ করে সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং উপস্থিত জনতার কাছে এর প্রতিবাদে ভোটের আবেদন জানান। এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে এদিন পুলিশ ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তের এই প্রচারে উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ত্রিমুখী লড়াই এখন তুঙ্গে।
