আজকের দিনেবাংলার আয়না

বালিতে চিকিৎসককে কাটারি দিয়ে কুপিয়ে খুন!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বালি: ভরদুপুরে হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড হাওড়ার বালিতে। এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে কাটারি দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁরই পরিচারিকার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বালির জিটি রোড সংলগ্ন গঙ্গার ধারের একটি আবাসনে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। মৃত চিকিৎসকের নাম রামকৃষ্ণ চালকি (৪৩)। ঘটনার পর অভিযুক্ত পরিচারিকা তপতী থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে খুনের কারণ নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য।

ফ্ল্যাটের ভেতরেই রক্তাক্ত দেহ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রামকৃষ্ণ চালকি বালির ওই আবাসনের দু’টি ফ্ল্যাটে নিজের ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। তাঁর স্ত্রী ও মা থাকতেন ডানকুনির বাড়িতে। বছর দেড়েক আগে তিনি তপতীকে রান্নাবান্না ও গৃহ সহায়িকার কাজে নিয়োগ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ছেলে যখন খাওয়ার জন্য বাবার ফ্ল্যাটে ঢোকেন, তখন দেখেন মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন রামকৃষ্ণ। ততক্ষণে বালি থানায় পৌঁছে নিজের অপরাধ কবুল করেন পরিচারিকা তপতী।

‘রেপিস্ট’ তকমা বনাম ব্ল্যাকমেলিংয়ের অভিযোগ

শুক্রবার অভিযুক্ত তপতীকে আদালতে তোলার সময় এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকরা তাঁকে খুনের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি চিৎকার করে বলে ওঠেন, “একজন রেপিস্টকে, একজন…”। তবে তাঁর কথা শেষ হওয়ার আগেই পুলিশ কর্মীরা তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যান। পরিচারিকার এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন ধন্দ। অন্যদিকে, মৃত চিকিৎসকের দাদা শ্রীধর চালকির দাবি সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত খুন। তিনি বলেন: “মনে হচ্ছে ব্ল্যাকমেলিংয়ের উদ্দেশ্যেই এই খুন। ও (তপতী) টাকা চেয়েছিল, তা না পাওয়াতেই কাটারি দিয়ে কুপিয়ে আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে।”

তদন্তে পুলিশ

বালি থানার পুলিশ কাটারিটি উদ্ধার করেছে এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে। চিকিৎসকের সঙ্গে পরিচারিকার অন্য কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, কিংবা চিকিৎসক তপতীর ওপর কোনও অত্যাচার করতেন কি না— সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিচারিকার তোলা ‘ধর্ষণ’ বা ‘নিগ্রহের’ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেও তৎপর হয়েছে তদন্তকারীরা।

একদিকে পরিবারের দাবি অনুযায়ী আর্থিক বিবাদ, আর অন্যদিকে অভিযুক্তের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য— এই দুইয়ের ভিড়ে বালির এই চিকিৎসক খুনের রহস্য এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *