ভোট দিলেই মিলছে পান-বিড়ি আর গরম চা! ধূপগুড়িতে ‘ভোট-উপহার’ ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,ধূপগুড়ি: ভোট দিয়ে বেরোলেই হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে পান-সুপারি, আর সঙ্গে মিলছে বিড়িও! গরম লাল চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে জম্পেশ আড্ডায় মাতছেন ভোটাররা। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের দক্ষিণ কাঁঠুলিয়া গ্রামে দেখা গেল এমনই এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত ছবি। ভোটারদের ‘আপ্যায়ন’-এর এই বিশেষ আয়োজন ঘিরে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি।
ঘটনাটি ঠিক কী? ধূপগুড়ির কাঁঠুলিয়া অতিরিক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫/১০৫ নম্বর বুথে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ছিল ভোটারদের লম্বা লাইন। অভিযোগ উঠেছে, বুথ থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরত্বের মধ্যেই ভোটারদের জন্য ঢালাও ব্যবস্থা করা হয়েছে:
-
বিড়ি ও পান-সুপারি: ভোট দিয়ে বেরোনোর পর ভোটারদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বিড়ি এবং পান-সুপারি।
-
গরম লাল চা: লাইনে দাঁড়ানোর ধকল কাটাতে ভোটারদের আপ্যায়নে রাখা হয়েছে গরম চা।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ ও রাজনৈতিক তরজা: বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলির দাবি, ভোটারদের প্রভাবিত করতেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ‘উপহার’-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি অনুযায়ী, বুথের নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের মধ্যে ভোটারদের কোনোভাবে প্রলুব্ধ করা বা এই ধরনের কোনো ক্যাম্প করা নিষিদ্ধ। বিরোধীদের বক্তব্য, “ভোটারদের সরাসরি প্রভাবিত করার জন্যই এই কৌশলী প্রলোভন দিচ্ছে শাসকদল।”
তৃণমূলের পাল্টা দাবি: যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্লান্ত ভোটারদের জন্য এটি নিতান্তই একটি সৌজন্যমূলক ব্যবস্থা। কোনো বিশেষ দলকে ভোট দেওয়ার জন্য কাউকে চাপ দেওয়া হচ্ছে না।
ভোটের মেজাজে আড্ডা: বিতর্ক একদিকে থাকলেও, স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে এই আয়োজন নিয়ে বেশ উৎসাহ দেখা গিয়েছে। অনেককেই দেখা যায় ভোট দেওয়ার আগে বা পরে এই অস্থায়ী ক্যাম্পে বসে আড্ডা দিতে। কেউ পান মুখে দিয়ে বাড়ি ফিরছেন, কেউ বা বিড়িতে টান দিয়ে নির্বাচনী আলোচনা সারছেন।
