রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ ভোট: দেড় মাসের প্রস্তুতিতে বঙ্গে ‘ফুল মার্কস’ পেল নির্বাচন কমিশন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় এক অভূতপূর্ব ছবি দেখল রাজ্যবাসী। যে বাংলায় ভোটের দিন মানেই বোমাবাজি, গুলিচালনা বা রাজনৈতিক সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে, সেখানে বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোট কাটল মোটের ওপর অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে। দেড় মাস আগে থেকে রাজ্যকে কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে দেওয়ার যে পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশন নিয়েছিল, তার সুফল মিলল হাতেনাতে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে তৃণমূল, বিজেপি এবং কংগ্রেস—সব পক্ষই কমিশনের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য কমিশনের ‘বাহবা’
রাজ্যকে দুর্গের মতো সুরক্ষিত করতে দেড় মাস আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বুথে বুথে সেনাবাহিনীর কড়াকড়ি নিয়ে শুরুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা বিরক্তি থাকলেও, ভোটের দিন সেই পদক্ষেপই প্রশংসিত হয়েছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষের বিক্ষিপ্ত খবর এলেও কমিশন ও প্রশাসনের ‘কুইক অ্যাকশন’ বড় কোনো অশান্তি বাড়তে দেয়নি।
হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া: খুশি বিরোধী ও শাসক শিবির
-
দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারী: দুই মেদিনীপুরের দুই হেভিওয়েট গেরুয়া নেতা সকালেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দিলীপ ঘোষ বলেন, “মানুষ শান্তিতে ভোট দিচ্ছে, পরিবেশ ঠিক আছে। তাই অযথা বেশি মুভমেন্ট করার প্রয়োজন দেখছি না।” অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “খুব একটা উৎপাত করতে পারেনি কেউ, পারবেও না। শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কমিশন প্রশংসার দাবি রাখে।”
-
অধীররঞ্জন চৌধুরী: বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীও কমিশনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, “এবার বহুস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকায় বুথ দখল বা ছাপ্পা দেওয়া অসম্ভব। বাইরে থেকে ভয় দেখানোর চেষ্টা হলেও বুথের ভেতরে ভোটারদের ওপর দাপট দেখানোর পুরনো ছবি এবার উধাও।”
-
স্বপ্না বর্মন: রায়গঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনও কমিশনের ওপর ভরসা রেখেছেন। প্রথমবার প্রার্থী হিসেবে বুথে গিয়ে প্রথম ভোটটি দেন তিনি। স্বপ্না বলেন, “সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা করার জন্য প্রশাসন ও কমিশনকে ধন্যবাদ। আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে, সকলে আশীর্বাদ করবেন।”
ভোটের পরিসংখ্যান (বেলা ১টা পর্যন্ত)
প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। বেলা ১টা পর্যন্ত আনুমানিক ভোটের হার ৬২.১৮%, যা গত নির্বাচনের তুলনায় অনেকটা বেশি।
