এক টন না দেড় টন, আপনার ঘরের জন্য কোনটা জরুরী?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: গরমকাল এসে গেছে। চরছে পারদের মাত্রা। প্যাচপ্যাতে গরমের হাত থেকে মুক্তি পেতে কম-বেশী অনেকেই আজকাল এয়ার কন্ডিশনার (AC) ব্যবহার করেন।কিন্তু নতুন দোকানে এসি কিনতে গেলে আমরা বুঝেই উঠতে পারিনা, আমার ঘরের জন্য কতো টন প্রয়োজন। ১-টন নাকি ১.৫-টন। এই নিয়ে দ্বিধা দ্বন্ধ চলতে থাকে মনের মধ্যে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে সেরাটি বেছে নেবেন।একটি ঘরের জন্য ১ টন নাকি ১.৫-টন এসি বেছে নেবেন, তা মূলত নির্ভর করে আপনার ঘরের আয়তন এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর। সঠিক ক্ষমতার এসি না কিনলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ বিল বেশি আসবে, তেমনি ঘরও ঠিকমতো ঠান্ডা হবেনা ।
ঘরের আয়তন অনুযায়ী নির্বাচন
- ১০০ – ১২০ স্কয়ার ফিট: ১ টন এসি যথেষ্ট।
- ১২১ – ১৭০ স্কয়ার ফিট: দেড় (১.৫) টন এসি সবচেয়ে ভালো।
- ১৭০ স্কয়ার ফিটের বেশি: ২ টন এসি প্রয়োজন হতে পারে।
কখন ১.৫ টন এসি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ?
আপনার ঘর যদি ১২০ স্কয়ার ফিটের নিচেও হয়, তবুও নিচের কারণগুলো থাকলে দেড় টন এসি নেওয়া ভালো:
- টপ ফ্লোর বা ছাদের ঘর: ঘর যদি একদম উপরের তলায় হয় এবং ছাদ সারাদিন রোদে গরম হয়।
- জানলার অবস্থান: ঘরে যদি বড় জানলা থাকে এবং তা দিয়ে সরাসরি দুপুরের রোদ ঢোকে।
- মানুষের সংখ্যা: ঘরে যদি সাধারণত ৩-৪ জনের বেশি মানুষ থাকে।
- উত্তাপ ছড়ায় এমন যন্ত্র: ঘরে যদি কম্পিউটার, বড় টিভি বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক্স বেশি থাকে যা তাপ উৎপন্ন করে।
১ টন এসির সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
- সুবিধা: দাম কম এবং ছোট ঘরের জন্য এটি খুব দ্রুত ঘর ঠান্ডা করতে পারে। বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম হয়।
- সীমাবদ্ধতা: বড় ঘরে ১ টন এসি লাগালে কম্প্রেশারের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, ফলে ঘর ঠিকঠাক ঠান্ডা হয় না এবং বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বেড়ে যায়।
কিছু জরুরি টিপস:
- ইনভার্টার বনাম নন-ইনভার্টার এসি: যদি দিনে ৬-৭ ঘণ্টার বেশি এসি চালান, তবে অবশ্যই ইনভার্টার এসি কিনুন। এতে বিদ্যুৎ বিল অনেক কম আসবে।
- এনার্জি রেটিং: কেনার সময় স্টারের সংখ্যা দেখে নিন (যেমন ৩ স্টার বা ৫ স্টার)। স্টারের সংখ্যা যত বেশি, এসি তত সাশ্রয়ী।
- কপার কয়েল : সবসময় কপার কয়েলযুক্ত এসি কেনার চেষ্টা করুন, এটি টেকসই এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা সহজ।
