নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভের নেপথ্যে ‘পাক ছক’! আন্দোলনকে ‘দেশদ্রোহিতা’র তকমা দিলেন যোগীরাজ্যের শ্রমমন্ত্রী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়ডা: উত্তরপ্রদেশের শিল্পনগরী নয়ডায় বেতনবৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যখন আলোচনার মাধ্যমে মজুরি বাড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই এই বিক্ষোভের নেপথ্যে ‘পাকিস্তানি মদত’ এবং ‘সন্ত্রাসবাদী যোগ’ রয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর। এমনকি ন্যায্য পাওনার দাবিতে চলা এই আন্দোলনকে সরাসরি ‘দেশদ্রোহিতা’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বিক্ষোভের সূত্রপাত ও অশান্তি
আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে পড়শি রাজ্য হরিয়ানার একটি সিদ্ধান্ত। সম্প্রতি হরিয়ানা সরকার অদক্ষ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এর পরেই নয়ডার শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তাঁদের দাবি, একই কাজের জন্য পাশের রাজ্যে বেতন বাড়লে উত্তরপ্রদেশে কেন নয়? সোমবার সকাল থেকে এই দাবিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় নয়ডা। বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করেন। একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
শ্রমমন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি ও গ্রেপ্তার
শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর দাবি করেছেন, এই আন্দোলন নিছক বেতনবৃদ্ধির দাবি নয়, বরং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলি হলো-
পাক সংযোগ: ধৃতদের মধ্যে চারজনের সঙ্গে পাক জঙ্গিদের সরাসরি যোগাযোগ পাওয়া গিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদী ছক: নয়ডা এবং মিরাট থেকে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে যাদের মূল লক্ষ্য ছিল অশান্তি ছড়ানো।
গণ গ্রেপ্তার: এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জনকে এই অশান্তির জেরে পুলিশ আটক বা গ্রেপ্তার করেছে।
দেশদ্রোহিতার তকমা: মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই বিক্ষোভের মোড়কে রাজ্যজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, যা আসলে ‘দেশদ্রোহিতা’।
যোগী আদিত্যনাথের তৎপরতা ও সমাধান
পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে দেখে রাতেই সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। মাঝরাতে শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র হিসেবে যোগী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ”সমস্ত অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের মজুরি ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় আন্দোলনের তীব্রতা কমলেও বিতর্ক থামছে না। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই দাবি মেনে বেতন বাড়ানোর নির্দেশ দিলেন, সেখানে তাঁরই মন্ত্রিসভার সদস্য কেন শ্রমিকদের লড়াইকে ‘দেশদ্রোহিতা’ ও ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর সঙ্গে তুলনা করলেন, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধী ও শ্রমিক সংগঠনগুলির প্রশ্ন, ন্যায্য পাওনার দাবি তোলা কি এখন উত্তরপ্রদেশে অপরাধ? যদিও এই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে আপাতত মৌন রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
