‘ইভিএম খারাপ হলে ভোট দেবেন না, নতুন আনতে বলুন’, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,মালদহ: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গকে পাখির চোখ করে ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার মালদহের মালতিপুর ও গাজোলের জনসভা থেকে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে বিঁধলেন তিনি, তেমনই ইভিএম নিয়ে ভোটারদের চূড়ান্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলেন। এমনকি সভা শেষে কপ্টারে ওঠার সময় ড্রোন উড়তে দেখে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।
মালতিপুরের সভা থেকে বুথ স্তরের কর্মীদের এবং বিশেষ করে মহিলাদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ইভিএম কেন্দ্রীয় সরকার তৈরি করে। যদি ভোট দিতে গিয়ে দেখেন যন্ত্র খারাপ, তবে ওই যন্ত্রে ভোট করতে দেবেন না। মেরামত করলেও দেবেন না, বলবেন নতুন মেশিন নিয়ে আসুন।” গণনার দিন কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, “যদি লোডশেডিং করে দেওয়া হয়, তবে মা-বোনেরা রাত জেগে পাহারা দেবেন। নেতার ওপর ভরসা না করে কর্মীরাই আসল সম্পদ, আপনাদের রাত জেগে পাহারা দিতে হবে।” জনসাধারণকে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিজেপি ছদ্মবেশ ধরে মানুষের অ্যাকাউন্ট নম্বর হাতিয়ে নিতে পারে। তিনি বলেন, “তৃণমূল বা সরকারের নাম করে কেউ কেউ আপনার অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইতে পারে। ৫০০ টাকা দেওয়ার টোপ দিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সব টাকা উধাও করে দিতে পারে ওরা। সাবধান থাকবেন।”
মালদহের মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া (SIR) নিয়ে চলা অশান্তির প্রেক্ষিতে কমিশনকে বিঁধতে ছাড়েননি তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কটাক্ষ, “বিজেপিকে দেখলেই কমিশন বেচারা হয়ে যায়, কিচ্ছু বলতে পারে না।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লক্ষ্য করে তাঁর হুঁশিয়ারি, “সন্ত্রাস আর চক্রান্ত করলে মোটাভাই, বাংলায় তোমার হবে না ঠাঁই।” তিনি সাফ জানান, মালদহে যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন, ভোটার তালিকায় নাম কাটার পর তাঁরাও এবার দিক পরিবর্তন করবেন।এদিনের কর্মসূচি শেষে মালতিপুর থেকে গাজোলের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় এক বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন হেলিপ্যাডের দিকে এগোচ্ছেন, ঠিক তখনই তাঁর কপ্টারের খুব কাছে একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই ড্রোন কোথা থেকে এল এবং এর নেপথ্যে কোনো নিরাপত্তা চ্যুতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রহস্য দানা বেঁধেছে। মালদহবাসীর উদ্দেশে শেষ বার্তায় তাঁর প্রশ্ন, “আম-আমসত্ত্ব খাবেন না কি বাবলা কাঁটার গাছ নেবেন? এটা আপনাদেরই ঠিক করতে হবে।”
