দেবের স্মৃতিতে ফিরল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর দিনগুলি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: সোমবার দুপুর তিনটে। দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড় তখন এক জনসমুদ্র। টলিপাড়ার অত্যন্ত প্রিয় অভিনেতা, লেখক এবং বন্ধুবৎসল মানুষ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (বাবিন)-এর নিথর দেহ যখন তাঁর বাসভবনে পৌঁছল, তখন কান্নায় ভেঙে পড়লেন উপস্থিত হাজার হাজার অনুরাগী ও সতীর্থ। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় স্টুডিওপাড়ায় আছড়ে পড়া সেই দুঃসংবাদ আজও যেন কারও কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে না।
বর্তমানে উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সাংসদ-অভিনেতা দেব। সেখান থেকেই স্মৃতিতে ডুব দিলেন পুরনো বন্ধু ও সহকর্মীর। দেব ফিরে গেলেন সেই দিনগুলোয় যখন রাজ চক্রবর্তীর হাত ধরে রাহুল ও দেব বাংলা সিনেমাকে একের পর এক সুপারহিট উপহার দিচ্ছিলেন। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে দেব বলেন, “রাহুল খুব তাড়াতাড়ি চলে গেল। মনে পড়ছে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির সেই দিনগুলো। ‘প্যান্টে তালি’ গানে আমি আইটেম ডান্স করেছিলাম। গানের শুটিংয়ের জন্য ওকে নিয়ে আমি আর রাজ সাউথ সিটি মল আর নিউ মার্কেটে শপিং করতে গিয়েছিলাম। ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া’ ছবির শুটিংয়েও ও আমাদের সঙ্গে মালয়েশিয়া গিয়েছিল। রাহুল আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সেরা অভিনেতা ছিল। বাংলার সিনেমার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।”
তমলুক মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের পর সোমবার দুপুরে রাহুলের দেহ বিজয়গড়ে পৌঁছলে পরিস্থিতি শোকার্ত হয়ে ওঠে। বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী রাহুলের শেষযাত্রায় রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে গিয়ে শামিল হন সর্বস্তরের নেতারা। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, স্বরূপ বিশ্বাস, এবং সিপিআইএম নেতা মহম্মদ সেলিম। বিজয়গড়ের বাসভবনে রাহুলকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, সাহেব চট্টোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষ। কান্নায় ভেঙে পড়া আবির চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাহুল আমার থেকেও বয়সে ছোট। ওর এভাবে চলে যাওয়াটা অত্যন্ত শকিং। কাজের বাইরেও ওর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল। আমি শুধু চাইব, সত্যিটা সামনে আসুক।”
রাহুলের অকালপ্রয়াণ ঘিরে টলিপাড়ায় শোকের পাশাপাশি এক চাপা গুঞ্জনও তৈরি হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তই বলে দেবে ঠিক কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রবিবারের সন্ধ্যায়। আপাতত প্রিয় ‘বাবিন’-কে হারিয়ে রিক্ত ও নিস্তব্ধ গোটা টলিপাড়া।
