শ্রীরামপুরে কি প্রার্থী হচ্ছেন শুভঙ্কর-পুত্র?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে এবার বড় আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘পরিবারতন্ত্র’ বনাম ‘রাজনৈতিক উত্তরাধিকার’। তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতার সন্তানরা যখন টিকিট পেয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ, ঠিক তখনই নতুন জল্পনা শুরু হলো কংগ্রেস শিবিরে। হুগলির শ্রীরামপুর আসনে কি প্রার্থী হতে চলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের ছেলে? খোদ প্রদেশ সভাপতির মন্তব্যেই এখন এই প্রশ্নটি জোরালো হয়ে উঠেছে।
এবার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৮৪টিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় কংগ্রেস। বাকি ১০টি আসনের তালিকায় রয়েছে হাইভোল্টেজ শ্রীরামপুর কেন্দ্রটি। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে এই আসনেই প্রার্থী হয়ে ৬৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন শুভঙ্কর সরকার। তবে এবার ঘোষিত ২৮৪ জনের তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় কৌতুহল বাড়ে। নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে নিজের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে শুভঙ্করবাবু বলেন, “শ্রীরামপুরের মানুষ চাইছেন আমি প্রার্থী হই। কিন্তু আমাকে এখন ২৯৪টি আসনই দেখতে হচ্ছে। অনেকেই বলছেন আমার ছেলে প্রার্থী হোক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড।” প্রদেশ সভাপতির এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নিজের ছেলেকে নির্বাচনী রাজনীতিতে নিয়ে আসার পথটি তিনি প্রশস্ত করে রাখলেন।
এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসও তাদের একাধিক প্রবীণ বিধায়কের পরিবর্তে তাঁদের সন্তানদের ওপর আস্থা রেখেছে। সেই তালিকায় রয়েছেন-
-
মহেশতলা: দুলালচন্দ্র দাসের পরিবর্তে তাঁর পুত্র শুভাশিস দাস।
-
এন্টালি: স্বর্ণকমল সাহার জায়গায় তাঁর ছেলে সন্দীপন সাহা।
-
মানিকতলা: সুপ্তি পাণ্ডের পরিবর্তে তাঁর কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডে।
-
পানিহাটি: নির্মল ঘোষের জায়গায় প্রার্থী হয়েছেন তাঁর পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ।
-
উত্তরপাড়া: তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় লড়ছেন শাসকদলের টিকিটে।
তৃণমূলের এই ‘নেক্সট জেনারেশন’ ফর্মুলা কি এবার কংগ্রেসেও কার্যকর হবে? শ্রীরামপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে শুভঙ্কর সরকার নিজে না দাঁড়িয়ে ছেলেকে দাঁড় করালে তা দলের অন্দরে ও বিরোধী শিবিরে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, সেটাই এখন দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষীয়ান নেতাদের সন্তানদের প্রার্থী করার এই প্রবণতা আসলে দলের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার একটি কৌশলী চাল।
