আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়নাভারত

ইরান যুদ্ধের উত্তাপ এবার বিয়ারের বোতলে!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ মধ্যপ্রাচ্যের রণদামামা এবার প্রভাব ফেলতে চলেছে ভারতের সুরাপ্রেমীদের পকেটে। ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ভারতে বিয়ারের সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাঁচামাল এবং প্যাকেজিং সরঞ্জামের অগ্নিমূল্যের কারণে বহুজাতিক বিয়ার সংস্থাগুলি ইতিমধ্য়েই মূল্যবৃদ্ধির সতর্কতা জারি করেছে।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বিয়ারের মূল উপাদান নয়, বরং যুদ্ধের প্রভাবে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে এর প্যাকেজিং শিল্প। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

কাঁচের বোতলের সংকট: যুদ্ধের জেরে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় কাঁচ তৈরির চুল্লিগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিয়ারের বোতলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

অ্যালুমিনিয়াম ও ক্যান: পণ্য পরিবহনে সমস্যার কারণে বিয়ারের ক্যান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

প্যাকেজিং খরচ: শুধুমাত্র বোতল নয়, বিয়ার প্যাকিংয়ের কাগজের কার্টনের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। লেবেল এবং টেপের মতো আনুষঙ্গিক উপকরণের দামও আকাশছোঁয়া।

আন্তর্জাতিক সংস্থা হাইনেকেন, এবি ইনবেভ  এবং কার্লসবার্গ-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো সরবরাহে সমস্যার কথা জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘ব্রুয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’-র প্রধান বিনোদ গিরি জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচ এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে বর্তমান দামে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এই সংকটের মোকাবিলা করতে বিয়ার সংস্থাগুলি রাজ্য সরকারগুলোর কাছে ১২ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। ভারতে গ্রীষ্মকাল মানেই বিয়ারের চাহিদাবেড়ে যাওয়া। চলতি বছরেও গরম বাড়তে শুরু করায় চাহিদাও তুঙ্গে। কিন্তু একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি আর অন্যদিকে প্যাকেজিং সামগ্রীর আকাল— এই দুই সাঁড়াশি চাপে পড়ে বিয়ারের জোগান তলানিতে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মহলের মতে, যুদ্ধের রেশ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে কেবল বিয়ার নয়, প্যাকেজিং শিল্পের ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য পানীয়র দামও ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *