আজকের দিনেতিলোত্তমা

প্রার্থী অসন্তোষে রণক্ষেত্র সল্টলেক বিজেপি অফিস

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে গেরুয়া শিবিরে। সেই আঁচ এবার পৌঁছাল সল্টলেকের বিজেপি পার্টি অফিসে। শুক্রবার বিকেলে প্রার্থী বদলের দাবিতে দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভ, স্লোগান এবং নেত্রীকে ঘিরে ধরে হেনস্থার চেষ্টায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সল্টলেক কার্যালয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কর্মীদের আঙুল উঁচিয়ে ‘শাসানি’ দেওয়ার অভিযোগ পর্যন্ত উঠেছে।
​​বিজেপি ইতিমধ্যে দুই দফায় ২৫৫টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। কিন্তু পাহাড় থেকে সমতল—একাধিক আসনে পছন্দের প্রার্থী না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নিচুতলার কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, স্থানীয় ভাবাবেগ উপেক্ষা করে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। এদিন সল্টলেক অফিসে লকেট চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত হলে তাঁদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কর্মীরা। ওঠে গো-ব্যাক স্লোগান। অভিযোগ, বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে মেজাজ হারান লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং কর্মীদের উদ্দেশ্যে শাসানির সুরে কথা বলেন।
​বিক্ষুব্ধ কর্মীদের সাফ কথা, অবিলম্বে বিতর্কিত আসনগুলোতে প্রার্থী বদল করতে হবে। দাবি মানা না হলে গণ-পদত্যাগ এবং সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ‘নির্দল’ প্রার্থী দাঁড় করানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন স্থানীয় নেতৃত্বরা। যা নির্বাচনের মুখে বিজেপির অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। বিজেপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে হাতিয়ার করতে দেরি করেনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “এ থেকেই বোঝা যায় বিজেপির নেতারা দিল্লির কাচের ঘরে বসে প্রার্থী ঠিক করেন। মাটি ও জনতার সঙ্গে ওদের কোনও যোগাযোগ নেই। আগামী দিনে ওদের কর্মী-সমর্থকরাও আর ওদের সঙ্গে থাকবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার আরও বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছেন।”
যদিও এই বিক্ষোভ বা শাসানির অভিযোগ নিয়ে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ভোটের মুখে খাস কলকাতায় দলীয় কার্যালয়ে এই বিশৃঙ্খলা দলের ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *