আজকের দিনেতিলোত্তমাভারত

এবার মহার্ঘ জোম্যাটো, বাড়ছে প্ল্যাটফর্ম ফি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা আর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কালো মেঘের প্রভাব এবার সরাসরি আমজনতার রান্নাঘরে। একদিকে ইরান সংঘাতের জেরে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, আর তার মধ্যেই গ্রাহকদের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপাল জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি অ্যাপ জোম্যাটো। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে প্রতি অর্ডারে গ্রাহকদের দিতে হবে বাড়তি প্ল্যাটফর্ম ফি।
​সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোম্যাটো তাদের প্ল্যাটফর্ম ফি এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়েছে। আগে যেখানে প্রতি অর্ডারে প্ল্যাটফর্ম ফি ছিল ১২ টাকা ৫০ পয়সা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৯০ পয়সায়। অর্থাৎ, গ্রাহকদের এখন থেকে অর্ডার পিছু অতিরিক্ত ২ টাকা ৪০ পয়সা বেশি গুনতে হবে। ​উল্লেখ্য, এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসেও ডেলিভারি চার্জ বাড়িয়েছিল জোম্যাটো। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্রতিযোগী সংস্থা সুইগির সাথে তাদের ফি প্রায় সমান হয়ে গেল (সুইগিতে বর্তমানে প্ল্যাটফর্ম ফি ১৪ টাকা ৯৯ পয়সা)।
​বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কাজ করছে একাধিক প্রতিকূল পরিস্থিতি-
​ইরান যুদ্ধের প্রভাব: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে খাবারের দাম বাড়ার যেমন আশঙ্কা রয়েছে, তেমনই টান পড়ছে ডেলিভারি সংস্থাগুলির লাভের অঙ্কেও।
​কমছে অর্ডারের সংখ্যা: ডেলিভারি কর্মীদের একাংশের দাবি, যুদ্ধের বাজারে এবং জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় মানুষ বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করা কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে ‘গিগ ইকোনমি’র ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের জীবিকা এখন সংকটে।
প্রতিযোগিতার চাপ: একদিকে যখন জোম্যাটো-সুইগি ফি বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই বাজারে থাবা বসাচ্ছে র‍্যাপিডো। তারা নতুন ফুড ডেলিভারি পরিষেবা শুরু করলেও এখনও কোনো অতিরিক্ত চার্জ নিচ্ছে না। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে জোম্যাটো বা সুইগির প্রতি অসন্তোষ বাড়ছে।
​২০০৮ সালে শুরু হওয়া জোম্যাটো আজ ভারতের প্রায় প্রতিটি শহরে পৌঁছে গেছে। কিন্তু যেভাবে ধাপে ধাপে প্ল্যাটফর্ম ফি বাড়ানো হচ্ছে, তাতে মধ্যবিত্তের ক্ষোভ বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, খাবারের দাম এবং ডেলিভারি চার্জের ওপর এই অতিরিক্ত ‘প্ল্যাটফর্ম ফি’ দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত।
​অন্যদিকে, অর্ডার কমে যাওয়ায় ডেলিভারি বয় বা রাইডারদের আয় তলানিতে ঠেকেছে। যুদ্ধের এই আবহে এলপিজি সংকট কাটবে কি না বা ভবিষ্যতে এই চার্জ আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *