Uncategorized

বাংলায় কথা বলায় ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ! অভিষেকের হস্তক্ষেপে বেঙ্গালুরুর জেল থেকে মুক্ত নন্দীগ্রামের দম্পতি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নন্দীগ্রাম: পেটের টানে ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হতে হলো বাংলার এক দম্পতিকে। কেবল বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে জুটেছে ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ, আর তার জেরে দীর্ঘ কয়েক মাস কাটল ভিনরাজ্যের অন্ধকার কারাপ্রকোষ্ঠে। অবশেষে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জামিনে মুক্তি পেলেন নন্দীগ্রামের দম্পতি।

​নন্দীগ্রামের ১ নম্বর ব্লকের জালপাই গ্রামের বাসিন্দা শেখ মহিদুল এবং তাঁর স্ত্রী সর্বানু বিবি। অভাবের তাড়নায় কাজের সন্ধানে পাড়ি দিয়েছিলেন সুদূর বেঙ্গালুরুতে। সেখানে একটি হোটেলে পরিচারক ও পরিচারিকার কাজ করতেন তাঁরা। পরিবারের অভিযোগ, গত ১২ জানুয়ারি স্থানীয় পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। অভিযোগের আঙুল ওঠে তাঁদের ভাষার দিকে। মহিদুল ও সর্বানু বাংলায় কথা বলায় তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করা হয়।

​দম্পতির পরিবারের দাবি, পরিচয়পত্র হিসেবে সমস্ত বৈধ ভারতীয় নথি দেখানো সত্ত্বেও পুলিশ কর্ণপাত করেনি। এখানেই শেষ নয়, অভিযোগ উঠেছে যে তাঁদের ওপর ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। পরিবারের কথায়,  ​”ওদের জোর করে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁরা ‘জয় বাংলা’ বলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।”

​দীর্ঘ কয়েক মাস বেঙ্গালুরুর জেলে বন্দি থাকার পর বিষয়টি নজরে আসে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করেন। সাংসদের হস্তক্ষেপে আইনি জটিলতা কাটিয়ে বুধবার অবশেষে জেল থেকে মুক্তি পান মহিদুল ও সর্বানু। জেল থেকে বেরিয়েই তাঁরা জননেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

​এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নন্দীগ্রামে। ব্লকের তৃণমূল কোর কমিটির সদস্য শেখ আল রাজী বিজেপি শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রের সমালোচনা করে বলেন, “বিজেপি দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। শুধুমাত্র মাতৃভাষায় কথা বলার অপরাধে ভারতীয় নাগরিকদের জেলে পুরে দেওয়া হচ্ছে। আমরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাদের গ্রামের ভূমিপুত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।” ​বর্তমানে ওই দম্পতি বেঙ্গালুরু থেকে নন্দীগ্রামের বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন। তবে এই ঘটনা ভিনরাজ্যে কর্মরত বাংলার শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *