পরমাণু কেন্দ্রে হামলার হুমকি ইরানের, মার্কিন মিসাইল পরীক্ষায় কাঁপছে বিশ্ব: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনি?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- বিশ্বজুড়ে বাড়ছে যুদ্ধের চরম উত্তেজনা। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতের দোরগোড়ায়। এর মধ্যেই আমেরিকার শক্তিশালী ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা এবং ভারত মহাসাগরে রণসজ্জা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইসরায়েলের পরমাণু কেন্দ্রে হামলার হুঁশিয়ারি তেহরানের
ইরানের সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েল যদি ইরানের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে, তবে তার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলের ডিমোনা পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইসরায়েলের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো এখন শীর্ষে। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে।
আমেরিকার ‘মিনিটম্যান-৩’ পরীক্ষা: শক্তির আস্ফালন?
ঠিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন বিমান বাহিনী ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাদের পরমাণু সক্ষমতা সম্পন্ন ‘মিনিটম্যান-৩’ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। যদিও পেন্টাগন এটিকে “রুটিন পরীক্ষা” হিসেবে দাবি করেছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবং তার মিত্রদের কাছে এটি একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা। এই মিসাইলটি হাজার হাজার মাইল দূরে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিন ও ইরানের পাল্টা হুমকি
ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক নিউক্লিয়ার সাবমেরিন মোতায়েন করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে যে, আমেরিকা এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে তাদের তেল সরবরাহ এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে।
ইরানের বক্তব্য, “আমাদের জলসীমার কাছে কোনো উস্কানি বরদাস্ত করা হবে না। মার্কিন সাবমেরিন যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে ভারত মহাসাগর তাদের জন্য কবরস্থানে পরিণত হবে।” আমেরিকা জানিয়েছে, এই মোতায়েন কেবল আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্নায়ুযুদ্ধের পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। কোনো একটি পক্ষের সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
