SSC : কড়া নিরাপত্তায় এসএসসি গ্রুপ সি পরীক্ষা, হাওয়াই চটি পরে কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- শিক্ষক নিয়োগের পর এ বার স্কুলের শিক্ষাকর্মী নিয়োগের পরীক্ষাও শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন। সারা রাজ্যে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গ্রুপ সি পদে এই পরীক্ষা। পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার আগে পরীক্ষার্থীদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহতল্লাশি করা হয়। বেল্ট, চামড়ার জিনিস এমনকি জুতো পর্যন্ত খুলে রেখে হাওয়াই চটি পরে অনেককেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
এই পরীক্ষাকে ঘিরে আবেগ, উদ্বেগ এবং ক্ষোভ সবই মিলেমিশে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জেরে চাকরি হারানো ‘যোগ্য’ শিক্ষাকর্মীরা আবার পরীক্ষা দিচ্ছেন। অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর স্কুলস্তরে নিয়োগ হওয়ায় নতুন চাকরিপ্রার্থীরাও নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় লড়াইয়ে নেমেছেন। কমিশন সূত্রে খবর, প্রায় ১২০০ জন ‘যোগ্য’ গ্রুপ সি কর্মী ফের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় দু’হাজারের মতো ভিন রাজ্যের প্রার্থীরাও এ বার পরীক্ষায় বসেছেন।
বনগাঁর চাঁদপাড়ার বাসিন্দা পূরবী মণ্ডল ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্কুলের শিক্ষাকর্মী পদে চাকরি পেয়েছিলেন। সাত বছর কাজ করার পর ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশে তাঁর চাকরি বাতিল হয়। তারপর থেকে বেতনহীন অবস্থায় চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে দিন কাটছে তাঁর। তবুও নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। পূরবীর কথায়, “নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছিলাম। সম্মানের সঙ্গে কাজ করতাম। এসএসসি ও কিছু নেতার দুর্নীতির কারণে আজ বেকার। ‘যোগ্য’ হয়েও আবার যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে নতুন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে হতাশা ও চাপা ক্ষোভ। দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় তাঁরা মনে করছেন, তাঁদের লড়াইটা অসম। কারণ, চাকরিহারাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ৫ নম্বর দেওয়া হচ্ছে। শ্যামনগরের শ্রীপর্ণা চট্টোপাধ্যায় বলেন, “দীর্ঘদিন পর নিয়োগ হচ্ছে, সেটাই আশার কথা। তবে নতুন করে যেন দুর্নীতি না হয়।”
দক্ষিণেশ্বর থেকে আসা প্রিয়দর্শনী চক্রবর্তীর কথায়, “সরকার ও কমিশনের গাফিলতির জন্যই পরিস্থিতি এত কঠিন। পুরনোরা পাঁচ নম্বর বাড়তি পাচ্ছেন, তাই তাঁরা আগেই এগিয়ে। তবে নতুনেরা চাকরি পেলে অন্তত বেকার যুবকদের লাইন কিছুটা কমবে।”
গ্রুপ সি-তে শূন্যপদের সংখ্যা ২৯৮৯। রাজ্য জুড়ে ১৬৯৩টি পরীক্ষাকেন্দ্রে ৬০ নম্বরের এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বেলা ১২টায় শুরু হয়ে পরীক্ষা শেষ হবে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে। কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আপাতত শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে পরীক্ষা।
