ঐতিহ্য, আলতা ও ঐশ্বর্যে রাজকীয় বিয়ে—রশ্মিকা-বিজয়ের মিলনে মুগ্ধ অনুরাগীরা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের বহু প্রতীক্ষিত প্রেম অবশেষে পরিণতি পেল বিবাহবন্ধনে। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন, একসঙ্গে দেখা যাওয়া, পরস্পরের প্রতি অকপট সমর্থন—সব কিছুর পর রাজকীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে গাঁটছড়া বাঁধলেন রশ্মিকা মানডানা ও বিজয় দেবড়াকোন্ডা। রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী শহর উদয়পুর-এর এক বিলাসবহুল প্রাসাদে সম্পন্ন হয়েছে তাঁদের বিয়ে। চারদিক আলো, ফুল আর ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় সাজানো সেই অনুষ্ঠান ছিল একদিকে ব্যক্তিগত, অন্যদিকে জাঁকজমকে ভরপুর।
বিয়ের আসরে ছিল কড়া বিধিনিষেধ। চিত্রগ্রাহক বা সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল সম্পূর্ণভাবে। ফলে বিয়ের মূল মুহূর্তগুলি ছিল একান্ত পারিবারিক পরিসরে। তবে পরদিন নবদম্পতি নিজেরাই সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে হাসিমুখে শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। দুই হাত জোড় করে প্রণাম, আকাশে চুম্বন ছুড়ে অনুরাগীদের ভালবাসার জবাব সব মিলিয়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। বিয়ের পর তাঁরা ফিরে যান হায়দ্রাবাদ-এ। বিমানবন্দরে তাঁদের উপস্থিতি ঘিরে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শরীরী ভাষায় স্পষ্ট ছিল নতুন জীবনের আনন্দ।
দু’জনের পারিবারিক শিকড় আলাদা রাজ্যে হওয়ায় বিয়েতেও মিলেছে দুই সংস্কৃতির সমন্বয়। প্রথমে বিজয়ের পরিবারের তেলুগু প্রথা অনুযায়ী সম্পন্ন হয় বিবাহ। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, অগ্নিসাক্ষী, সিঁদুরদান সবই ছিল ঐতিহ্যমাফিক। এরপর রশ্মিকার পরিবারের কোডাভা প্রথা অনুযায়ী আবার বিয়ে সারেন তাঁরা। কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলের এই রীতিতে বিশেষ পোশাক, আলাদা আচার এবং পারিবারিক আশীর্বাদ ছিল অন্যতম আকর্ষণ। গায়ে হলুদ, সঙ্গীত, মেহেন্দি সব আয়োজনই হয়েছিল উদয়পুরেই। এমনকি বিজয়ের উদ্দেশে নিজের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পুষ্পা-দঅ রাইজ-এর একটি গানে নৃত্য পরিবেশন করেন রশ্মিকা, যা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।
খাবারের আয়োজনেও ছিল দক্ষিণ ভারতের স্বাদ। অভ্যর্থনায় পরিবেশিত হয় নারকেল জল। মূল ভোজে ছিল হায়দরাবাদি দম বিরিয়ানি, নাটু কোডি পুলুস, গারেলু, পাপ্পু, কিমা সামোসা। রশ্মিকার কুর্গের শিকড়কে সম্মান জানিয়ে রাখা হয় কদম্বুটু ও পান্ডি কারি। শেষ পাতে ছিল মাইসোর পাক। অতিথিদের তালিকায় ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিয়ের আগে তিনি যুগলকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান বলে জানা যায়।
বিয়ের সাজে বিশেষ নজর কাড়েন রশ্মিকা। তাঁর পরনে ছিল সিঁদুরে লাল রঙের শাড়ি, সরু সোনালি পাড় ও জরির কাজ। গলায় কাসু মালা যার বড় লকেটে দেবী লক্ষ্মীর মূর্তি। কোমরে কোমরবন্ধ, হাতে বাজুবন্ধ, মাথায় টায়রা ও টিকলি সব মিলিয়ে ঐতিহ্য ও ঐশ্বর্যের মেলবন্ধন। লক্ষণীয়, তাঁর হাতে বা পায়ে আলতার চিহ্ন ছিল না। অন্যদিকে বিজয়ের সাজ ছিল একেবারে ব্যতিক্রমী। সোনালি অলঙ্কারে সজ্জিত হওয়ার পাশাপাশি তাঁর হাত ও পায়ে আলতা দেখা যায়। এই দৃশ্য ঘিরেই শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। অনেকে মনে করছেন, এটি নিছক শৌখিনতা নয়, বরং লিঙ্গসমতার এক প্রতীকী বার্তা বিবাহের দায়ভার নারী-পুরুষ উভয়েরই সমান।
এই জুটির আর্থিক অবস্থাও আলোচনার
কেন্দ্রবিন্দু। রশ্মিকা বর্তমানে দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সফল অভিনেত্রী। প্রতি ছবিতে প্রায় চার কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন বলে জানা যায়। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ছেষট্টি কোটি টাকা। বেঙ্গালুরু, কুর্গ, হায়দরাবাদ, মুম্বই ও গোয়ায় তাঁর একাধিক বাড়ি রয়েছে। বিলাসবহুল গাড়ির সংগ্রহও রয়েছে। ২০২৪ সালে ফরবেজ ইন্ডিয়া-র প্রভাবশালী নবাগতদের তালিকায় নাম ওঠে তাঁর।
অন্যদিকে বিজয় দেবরেকোন্ডার সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক সত্তর কোটি টাকা। প্রতি ছবিতে বারো থেকে পনেরো কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজমাধ্যম ও ব্যবসা থেকেও আয় করেন। হায়দরাবাদের জুবিলি হিলসে তাঁর বিলাসবহুল বাসভবন রয়েছে। গাড়ির সম্ভারে রয়েছে বহুমূল্যের একাধিক মডেল, এমনকি একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজও। ২০২৬ সালে ফোবর্স ইন্ডিয়ার প্রথম একশো তারকার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।
সব মিলিয়ে রশ্মিকা ও বিজয়ের যৌথ সম্পত্তির পরিমাণ একশো ত্রিশ কোটিরও বেশি। তবে বিত্ত বা ঐশ্বর্যের চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে তাঁদের পারস্পরিক সমর্থন, সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং বিবাহের আচার-অনুষ্ঠানে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির উপস্থাপনা। দক্ষিণী বিনোদুনিয়ায় এই নবদম্পতি এখন ভালবাসা, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অনন্য উদাহরণ।
