আজকের দিনেবাংলার আয়না

বাঘ ঠেকাতে সুন্দরবনে রঙিন ‘ফিশিং সেন্সর’ লাইট

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- প্রতিবছরই সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে আশপাশের গ্রামে বাঘ ঢুকে পড়ার ঘটনা শোনা যায়। আগে মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা ঘটলেও, গত কয়েক বছরে বাঘের আনাগোনা অনেকটাই বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। কখনও গরু-বাছুর তুলে নিয়ে যাওয়া, কখনও মানুষের উপর হামলা এই ভয় নিয়েই দিন কাটে জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের বাসিন্দাদের। সন্ধ্যা নামলেই বাড়ির দরজা-জানলা বন্ধ করে আতঙ্কে থাকেন অনেকেই।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বনদপ্তর। জঙ্গলের সীমানায়, বিশেষ করে খাল ও খাঁড়ির ধারে যেখানে বনদপ্তরের জাল বা নেট লাগানো আছে, সেখানে বসানো হচ্ছে বিশেষ ধরনের ‘ফিশিং সেন্সর’ লাইট। উঁচু গাছের ডাল বা জালের গায়ে এই লাইটগুলি লাগানো হচ্ছে, যাতে দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায়।

বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যা হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে উঠবে এই আলো। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ—বিভিন্ন রঙের আলো একসঙ্গে জ্বলবে। বনকর্তাদের ধারণা, এই রঙিন ও টিমটিমে আলো দেখে বাঘ বিভ্রান্ত হবে এবং লোকালয়ের দিকে এগোতে সাহস পাবে না। অনেক সময় বাঘ অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে গ্রামে ঢুকে পড়ে। তাই আলো জ্বালিয়ে সেই সুযোগ কমিয়ে দেওয়াই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল পাথরপ্রতিমা-র একটি গ্রামে। সেখানে ভালো ফল মেলায় এবার বড় পরিসরে কাজ শুরু হয়েছে কুলতলি এলাকায়। কুলতলি বিট অফিসের উদ্যোগে প্রায় ২৬ কিলোমিটার জুড়ে বসানো হচ্ছে প্রায় ৩০০টি ‘ফিশিং সেন্সর’ লাইট। যেসব জায়গায় বাঘের পায়ের ছাপ বেশি পাওয়া যায় বা বাঘের চলাচল বেশি, সেই এলাকাগুলোকেই আগে বেছে নেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি জঙ্গল ও গ্রামের মাঝখানে ১০ ফুট উঁচু নেট লাগানো হয়েছে। সেই নেটের কাছেই এবং আশপাশের গাছের ডালে বসানো হয়েছে এই লাইট। লক্ষ্য একটাই বাঘ যাতে গ্রামে ঢুকতে না পারে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, লোকালয়ে বাঘের হানা কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। ফল ভালো হলে ভবিষ্যতে আরও এলাকায় এই ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে।

কুলতলির বাসিন্দারাও বনদপ্তরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের কথায়, “বাঘের ভয়ে রাতে ঠিক করে ঘুমোতে পারতাম না। যদি এই আলোতে বাঘ আর গ্রামে না আসে, তাহলে আমাদের অনেকটাই স্বস্তি মিলবে।”

এখন দেখার, এই রঙিন ‘ফিশিং সেন্সর’ লাইট কতটা কার্যকর হয়। তবে আপাতত নতুন এই উদ্যোগে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন সুন্দরবনের জঙ্গলঘেঁষা গ্রামের মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *