আজকের দিনেতিলোত্তমা

বিধানসভায় নিরাপত্তা বিতর্ক, হাইকোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষেই

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্দরে বিধায়কদের নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ এই নির্দেশকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। সেই মামলার শুনানিতে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী ও বিধানসভার অধ্যক্ষ এই দুই পদই সাংবিধানিক পদ। ফলে

বিধানসভার ভিতরে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রবেশকে আদালত অবমাননা বলা যায় না।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা এই মামলার শুনানি সোমবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে হয়। শুনানিতে রাজ্যের এজি বলেন, “এখানে চারটি সাংবিধানিক পদ রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধানসভার অধ্যক্ষ, বিচারপতি এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল। এর বাইরে কেউ নিজেকে সাংবিধানিক পদের সমান বলে দাবি করতে পারে না।” পরোক্ষভাবে বিরোধী দলনেতার দাবি খারিজ করে রাজ্য জানায়, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি আলাদা গুরুত্বের দাবি রাখে।

এই মামলার প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য, বিধানসভার অধ্যক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছিলেন, কোনও বিধায়ক নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিধানসভার ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। সেই নির্দেশের পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেছেন এই অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দায়ের করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি ছিল, এতে আদালত অবমাননা হয়েছে এবং বিধানসভার নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে।

সোমবারের শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানান, আদালত এই বিতর্কের গভীরে ঢুকতে চায় না। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, বিধানসভার ভিতরে নিরাপত্তার বিষয়েও নিয়মের ব্যতিক্রম হওয়া উচিত নয়। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, স্পিকারের জারি করা নিরাপত্তারক্ষী সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি সব বিধায়কের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া দরকার।

এর আগে মামলার পূর্ববর্তী শুনানিতে বিচারপতি সিনহা নির্দেশ দিয়েছিলেন, বিধানসভার সমস্ত বিধায়কদের জন্য যেন একই নিয়ম কার্যকর হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে বিধানসভার সচিবকে। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, সেই নির্দেশের পরও মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিধানসভার অন্দরে প্রবেশ করেছিলেন।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি জানান, এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি থাকবে। ততদিন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যবেক্ষণ করবে আদালত। বিধানসভায় নিরাপত্তা, সাংবিধানিক পদ এবং সমান নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই আপাতত রাজনৈতিক ও আইনি মহলে চর্চা অব্যাহত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *