নবদুর্গা পুজো কমিটিতে হামলার অভিযোগ, চাঞ্চল্য গড়িয়ায়
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- গড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী নবদুর্গা পুজো কমিটির অফিসে ভাঙচুর ও টাকা লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, পুজো কমিটির সম্পাদকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ভয় দেখানো হয় এবং অফিস দখলেরও চেষ্টা চলে। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়িয়ার নবদুর্গা পুজো কমিটি প্রায় ৮৫ বছর ধরে দুর্গাপুজোর আয়োজন করে আসছে। কমিটির একটি স্থায়ী অফিস ঘর রয়েছে গড়িয়া এলাকায়। শুক্রবার সকালে সেই অফিসেই ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় প্রোমোটার অমিত গঙ্গোপাধ্যায় দলবল নিয়ে এসে এই হামলা চালান।
শুক্রবার সকালে ক্লাব খুলে দেখা যায়, অফিসের আসবাব, নথিপত্র সহ একাধিক জিনিস ভেঙে চুরমার করে রাখা হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে ছিল ধ্বংসস্তূপ। অভিযোগ, বেপরোয়া ভাবে অফিসের ভিতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
পুজো কমিটির সম্পাদক অভিযোগ করে বলেন, “উনি এখানকার দাদা, মস্তান। এলাকায় মাফিয়ারাজ চালাচ্ছেন। আমাদের পুজো অফিস দখল করার উদ্দেশ্যেই সকালে দলবল নিয়ে আসে। আমার বুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে, আমাকে মারধরও করা হয়েছে। যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে বলে গেছে প্রেসিডেন্ট, ক্যাশিয়ার ও ক্লাব সেক্রেটারিকে মেরে ফেলবে।”
এমনকি ঘটনাস্থল থেকে টাকা লোপাটের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এই ঘটনার পরই অভিযুক্ত অমিত গঙ্গোপাধ্যায়কে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে পুজো কমিটি।
কমিটির আরও অভিযোগ, এই অমিত গঙ্গোপাধ্যায় এলাকার জলাভূমি ভরাট করে অবৈধ নির্মাণ কাজ চালাচ্ছেন। সেই সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত বলে দাবি।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অমিত গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর পাল্টা দাবি, পুজো কমিটির সদস্যরাই তাঁর কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে পুজো কমিটির সম্পাদকের বক্তব্য, “ও চিটিংবাজ, তাই এমন কথা বলতেই পারে।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রোমোটার বলেন, “আমি একজন ব্যবসায়ী। ওদের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। আমার একটি বড় প্রজেক্ট চলছে। সেখানে ওরা ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল। মহাদেব চক্রবর্তী নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার এই টাকা চাইছিলেন। আমি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় এই নাটক করা হচ্ছে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের তরফেই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা ও তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে এলাকাবাসী।
