কলকাতায় খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের অভিযান
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- কলকাতার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ এবং কলকাতা পুরসভার যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা কমিশনারের নির্দেশে শুক্রবার মুচিবাজার ও মেছুয়া বাজার এলাকা ঘিরে ১৪ কিলোমিটার ব্যাপী নজরদারি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ব্যবহার করা হয় ‘ফুড সেফটি অন হুইলস’ ভ্যান, যার মাধ্যমে ঘটনাস্থলেই খাবারের মান পরীক্ষা করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালীন মোট ১৫টি খাবারের দোকান পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনের সময় ৩১টি খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা শেষে ৬টি নমুনা খাদ্য সুরক্ষা মানে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়। ফেল করা খাবারের মধ্যে রয়েছে চিকেন রোলের স্টাফিং (১.৫ কেজি), মুগের লাড্ডু (৩.৫ কেজি), চিকেন কষা (২ কেজি) এবং তিনটি দোকান থেকে সংগৃহীত হলুদ গুঁড়ো (মোট ১.৮ কেজি)।
খাদ্যসুরক্ষা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এসব খাবারের মান এতই নিকৃষ্ট ছিল যে তা খেলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বাজেয়াপ্ত খাদ্য সামগ্রী নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মোট ১০টি কর্মসূচিতে প্রায় ৩০ জন খাদ্য বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এছাড়া ২০ জনকে নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে খাদ্য প্রস্তুতি ও পরিবেশনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নিয়ম শেখানো হয়েছে। বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষকে খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
অভিযান শেষে খাদ্য বিক্রেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, রান্না ও পরিবেশনের সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, রান্না করা ও আধ-রান্না খাবার ঢেকে রাখা, প্রতিটি স্টলের পাশে ঢাকনাযুক্ত আবর্জনার বিন রাখা, খাবারে অননুমোদিত কৃত্রিম রং ও খোলা মশলা ব্যবহার না করা, পানীয় জল সংরক্ষণের জন্য ফুড-গ্রেড ট্যাপযুক্ত পাত্র ব্যবহার এবং একই রান্নার তেল পুনরায় ব্যবহার না করা।
কলকাতা পুরসভার উপ–মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও ফুড সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তরুণ সাঁপুই জানান, ‘পুরসভার দুটি গাড়িতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালানো হয়। রাস্তার ধারের নিম্নমানের খাবার ধরা পড়লে তা সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট করা হয়। কিছু নমুনা ল্যাবেও পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য।’
সম্প্রতি কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসেও অভিযান চালানো হয়েছে। সেখানে খাবারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কফি হাউসের ফ্রিজে সংরক্ষিত প্রক্রিয়াজাত খাবারের মান সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাস্তার ধারের খাবারের মান নিয়ে কোনও আপস হবে না। কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের যৌথ নজরদারি অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত চলবে।
