আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়না

সাতসকালে কলকাতা, দুর্গাপুর ও আসানসোলের একাধিক ঠিকানায় ইডির হানা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সাতসকালে ফের অ্যাকশন মোডে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার ভোর থেকেই দিল্লি, কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করে ইডি। কয়লা ও বালি পাচার মামলার তদন্তে দুর্গাপুর, আসানসোল, জামুড়িয়া, বর্ধমান-সহ মোট ৯টি জায়গায় হানা দেন তদন্তকারীরা। অভিযানে ইডির সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা, বুদবুদ থানার নবনিযুক্ত ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকার অম্বুজা নগরীতে তাঁর বাড়িতে সকাল থেকেই টানা তল্লাশি চলছে। যদিও এখনও তিনি বুদবুদ থানার দায়িত্বভার গ্রহণ করেননি। বাড়ি ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সিটি সেন্টার ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ সুদীপ্ত বিশ্বাসও সেখানে পৌঁছেছেন বলে খবর। ইডির তরফে মনোরঞ্জন মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বছরখানেক আগে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে আসানসোলের বারাবনি থানার দায়িত্বে থাকাকালীন মনোরঞ্জন মণ্ডলকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পরে তিনি আসানসোল পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে ফের বুদবুদ থানার ওসি হিসেবে পোস্টিং দেওয়া হয়। কিন্তু থানার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাঁর বাড়িতে ইডির হানায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
একই সঙ্গে পশ্চিম বর্ধমান জেলার একাধিক প্রান্তে বালি ও কয়লা ব্যবসায়ীদের বাড়িতেও অভিযান চালাচ্ছে ইডি। দুর্গাপুরের সেপকো টাউনশিপে বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্তের বাড়িতে ভোর ছ’টা নাগাদ হানা দেন আধিকারিকরা। প্রবীর দত্ত কে কে মিনারেলস সংস্থার মালিক। পানাগড়ে রয়েছে তাঁর অফিস। বাঁকুড়ার মালিয়ারায় পাথর খাদান, বালি খাদান ছাড়াও কাঁকসার সিলামপুরে তাঁর বালি খাদান রয়েছে। একই সময়ে সেপকোতেই তাঁর ভাই অমিত দত্তের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অমিত দত্ত দাদার বালি খাদান দেখাশোনার পাশাপাশি বাঁকুড়া, পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমানে অংশীদারিত্বে একাধিক বালি খাদান পরিচালনা করেন।

এছাড়াও পানাগরের বালি ব্যবসায়ী শেখ হাসিম মির্জা বেগের অম্বুজার বাড়িতে, অণ্ডালের বক্তারনগরে শেখ কিরণ মণ্ডলের বাড়িতে এবং পাণ্ডবেশ্বরের কয়লা ব্যবসায়ী শেখ মাইজুলের বাড়িতেও ইডির অভিযান চলছে। জামুড়িয়া বাজার সংলগ্ন পাঞ্জাবি মোড় এলাকায় ব্যবসায়ী রমেশ বনসলের বাড়িতেও হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। তাঁর দুই পুত্র সুমিত বনসল ও অমিত বনসলের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
সূত্রের খবর, কয়লা পাচার থেকে প্রাপ্ত কালো টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে কোন পথে লেনদেন হতো, সেই আর্থিক নেটওয়ার্কের খোঁজেই এই অভিযান। পাশাপাশি কয়লা ও বালি পাচারে ‘প্রোটেকশন মানি’ কারা নিত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই মামলায় এর আগে কৃষ্ণ মুরারি কয়াল, নরেন্দ্র খরকার-সহ আটজনকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
অভিযোগ, অজয় নদ ও দামোদর নদ থেকে বালি উত্তোলন করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করত এই চক্র। সরকারি নিয়ম মেনে টেন্ডারের মাধ্যমে বৈধ বালি ঘাট থেকে বালি তোলার পাশাপাশি একাধিক জায়গায় অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে পাচার করা হতো। বালির চালানে জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ, বীরভূমের চালান দেখিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বালি পাচার করা হতো এবং একটি চালান বারবার ব্যবহার করে বালি সরবরাহ করা হতো। এই অবৈধ কারবারের মাধ্যমেই বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। কলকাতা ও দিল্লিতেও সমান্তরালভাবে চলছে ইডির অভিযান। গোটা ঘটনায় রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *