মাঝরাতে বিস্ফোরণে তৃণমূল নেতার গাড়ি ভাঙচুর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি থানার অন্তর্গত গাজিপুর পঞ্চায়েতের ছামনাবুনি গ্রামে মাঝরাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণে তৃণমূল কংগ্রেস নেতার গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ভেঙে পড়ে গাড়ি রাখার অ্যাসবেস্টসের গ্যারাজের ছাউনিও। এই ঘটনার সূত্র ধরে শনিবার সকালেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছামনাবুনি গ্রামের তৃণমূলের বুথ সভাপতি কুতুবউদ্দিন পাইকের গাড়িতে রাত প্রায় ১টা নাগাদ বিস্ফোরণ ঘটে। অন্যান্য দিনের মতো সেদিনও তাঁর বাড়ির গ্যারাজে রাখা ছিল গাড়িটি। হঠাৎ বিকট শব্দে এলাকার বাসিন্দারা ছুটে বেরিয়ে এসে দেখেন, গাড়ির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছাউনিটি সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কুতুবউদ্দিনের দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শনিবার সকালে কুতুবউদ্দিন পাইক জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে প্রথমে তিনি কিছু বুঝতে পারেননি। পরে স্থানীয়রা এসে তাঁকে জানান তাঁর দোকান ও গাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে এসে তিনি দেখেন সবকিছু তছনছ। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে গাড়িতে বোমা লাগানো হয়েছিল। তিনি আরও জানান, এর আগেও তাঁর বাড়িতে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় প্রমাণ মিলেছিল এবং অভিযুক্তরা দোষ স্বীকার করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এই ঘটনার পিছনে বিরোধীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। কুতুবউদ্দিন পাইকের দাবি, আইএসএফ ও কংগ্রেসের কর্মীরাই এই বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ যেন নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে।
তবে তৃণমূলের অভিযোগ মানতে নারাজ আইএসএফ। তাঁদের পাল্টা দাবি, ভোটের আগে এলাকায় বোমা মজুত করেছিল তৃণমূল। সেই বোমাই বিস্ফোরিত হয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। এখন দায় চাপাতে বিরোধীদের নাম জড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ আইএসএফের। এই ঘটনার খবর পেয়ে কুলপি থানার পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ইতিমধ্যেই এলাকা ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কীভাবে এবং কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাননি পুলিশ আধিকারিকরা।
ভোটের মুখে এই বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
