আজকের দিনেভারত

ড্রোনে ভর করে কৃষকের পাশে ২ ইঞ্জিনিয়ার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- আমনদীপ পানওয়ার আর ঋষভ চৌধুরী দু’জনেই ইঞ্জিনিয়ার। তাঁদের কেউই কৃষক পরিবারের ছেলে নন। ছোটবেলা থেকে প্রযুক্তি আর নতুন কিছু বানানোর নেশাই ছিল তাঁদের।

লখনউয়ের ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় নিজেরাই একটি ড্রোন বানান তাঁরা। ড্রোনটি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা দেখতে বরাবাঁকির কয়েকটি ফাঁকা ধানখেতে পরীক্ষা চালান।

ড্রোন উড়তে দেখে আশপাশের কৃষকেরা এসে ভিড় করেন। তখনই এক কৃষক প্রশ্ন করেন—এই ড্রোন কি ফসল ভালো আছে না খারাপ, তা জানাতে পারবে? সেদিন এই প্রশ্নের কোনও উত্তর ছিল না আমনদীপ আর ঋষভের কাছে। কিন্তু ওই প্রশ্নই তাঁদের ভাবতে বাধ্য করে। তাঁরা বুঝতে পারেন, প্রযুক্তি যদি কৃষকের কাজে লাগে, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে। এরপর তাঁরা বিভিন্ন কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে ঘুরে দেখেন। কথা বলেন কৃষকদের সঙ্গে। তখন বুঝতে পারেন, ফসল সংক্রান্ত সঠিক তথ্য কৃষকদের কাছে ঠিকমতো পৌঁছয় না। অনেক সময় সমস্যা বোঝা যায় না, ফলে ক্ষতি হয়ে যায়।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁরা ড্রোনে বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করে ফসলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার উপায় খুঁজে বের করেন। এই ভাবনা থেকেই তৈরি হয় তাঁদের সংস্থা ‘ভারতরোহন’। শুরুতে বরাবাঁকির ৪২ জন কৃষককে নিয়ে কাজ শুরু হয়। ধীরে ধীরে কৃষকদের ভরসা বাড়ে। আজ প্রায় ৫০ হাজার কৃষকের সঙ্গে কাজ করছে ভারতরোহন। দেশের সাতটি রাজ্যে এই পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে।

এখন ড্রোনের মাধ্যমে ফসল পরীক্ষা ছাড়াও সার দেওয়া, পুষ্টি জোগানো এবং কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। কৃষকের মোবাইলে, হোয়াটসঅ্যাপেই রিপোর্ট পৌঁছে যাচ্ছে। কাজ সহজ করতে একটি মোবাইল অ্যাপও তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃষকের কাছে পৌঁছতে চান আমনদীপ ও ঋষভ। গ্রামের মানুষদের কাজের সুযোগ করে দেওয়াও তাঁদের লক্ষ্য। প্রযুক্তির সাহায্যে কৃষকের পাশে দাঁড়ানোই এখন তাঁদের স্বপ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *