Vande Bharat : জীবন্ত হৃৎপিণ্ড নিয়ে ছুটল বন্দে ভারত! ২১৭ মিনিটে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় রেল !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, আমেদাবাদ :- স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নয়া মাইলস্টোন ভারতীয় রেলের। এই প্রথমবার লাইভ ডোনারের হৃৎপিণ্ড ট্রেনে করে পরিবহণ করা হল। ট্রেন নম্বর ২০৯০১ মুম্বই সেন্ট্রাল–গান্ধীনগর ক্যাপিটাল বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে চেপে সুরাত থেকে অমদাবাদে মাত্র ২১৭ মিনিটে পৌঁছে গেল জীবনদায়ী ডোনার হার্ট। সময়মতো তা পৌঁছাল অমদাবাদের ইউএন মেহতা ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে। দেশজুড়ে প্রশংসার ঝড়।
অঙ্গ প্রতিস্থাপন মানেই সময়ের সঙ্গে দৌড়। হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তাই এই মিশন সফল করতে প্রতিটি সেকেন্ডের হিসাব ছিল।
সুরাত স্টেশনে মেডিক্যাল টিমের হাত থেকে বিশেষ কুল-বক্সে হৃৎপিণ্ডটি গ্রহণ করে RPF। তারপর একেবারে প্রোটোকল মেনে তা তোলা হয় বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে। ট্রেনটিও নির্ধারিত সময়ের আগেই গন্তব্যে পৌঁছায়। সুরাত থেকে অমদাবাদ — ৩ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট।
আমেদাবাদ স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ঢোকার আগেই তৈরি ছিল গ্রিন করিডোর। RPF এবং গুজরাত রাজ্য পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্স সরাসরি প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সেখান থেকে বিনা বাধায় হৃৎপিণ্ড পৌঁছে যায় ইউএন মেহতা ইনস্টিটিউটে। ফলে প্রতিস্থাপনের কাজও সময়মতো শুরু করা সম্ভব হয়।
এই গোটা অপারেশনে ভারতীয় রেল, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স, গুজরাত পুলিশ এবং ডাক্তারদের টিমের মধ্যে নিখুঁত কোঅর্ডিনেশন ছিল।
আমেদাবাদের DRM বেদ প্রকাশ বলেন, “এটি ভারতীয় রেলের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও সন্তুষ্টির মুহূর্ত। বন্দে ভারতের গতি ও সময়ানুবর্তিতা প্রমাণ করল যে আমরা শুধু যাত্রী বা পণ্য নয়, জীবনও বাঁচাতে পারি। এই ধরনের মিশনে প্রতি মিনিটই দামি। সমস্ত টিমের সমন্বয়েই এই সাফল্য। একটি মানুষের জীবন বাঁচানো আমাদের সর্বোচ্চ কর্তব্য।”
এই ঘটনা প্রমাণ করল জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় ভারতীয় রেল এখন শুধু পরিবহণ মাধ্যম নয়, জীবনরক্ষার পার্টনার।
বন্দে ভারতের এই ২১৭ মিনিটের যাত্রা একটা বার্তা দিল — গতি যখন প্রাণ বাঁচায়, তখন প্রযুক্তিও মানবিক হয়ে ওঠে। ভারতীয় রেল দেখিয়ে দিল, প্রয়োজনে দেশের দ্রুততম ট্রেনও হয়ে উঠতে পারে “লাইফলাইন এক্সপ্রেস”।
