অমরনাথে উপচে পড়া ভিড়, জারি জরুরি নির্দেশিকা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নিউজ ডেস্ক: অমরনাথ যাত্রায় পুণ্যার্থীদের ঢল অব্যাহত। চলতি বছরের যাত্রার শুরু থেকেই উপচে পড়ছে ভিড়। মঙ্গলবার একদিনেই রেকর্ড সংখ্যক ৮,৮১৫ জন তীর্থযাত্রী জম্মুর ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প থেকে পবিত্র অমরনাথ গুহা মন্দিরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। মঙ্গলবারের এই রেকর্ড যাত্রার জেরে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ দিনেই মোট দর্শনার্থীর সংখ্যা এক লক্ষের গণ্ডি ছুঁতে চলেছে।
মঙ্গলবারে বছরের সবচেয়ে বড় দল, শামিল ৩১ বিদেশিও
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রওনা হওয়া ৮,৮১৫ জনের দলটি এ বছরের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় তীর্থযাত্রী দল। বিশেষ এই দলে ছিলেন ৫,৮৩১ জন পুরুষ, ২,১৯৩ জন মহিলা, ৩১ জন শিশু, ৫৯৮ জন সাধু, ১৩১ জন সাধ্বী এবং ৩১ জন বিদেশি নাগরিক। কড়া বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে মোট ৩৬৩টি গাড়ির বহর নিয়ে এই দল জম্মু থেকে কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা দেয়। এর মধ্যে ১৮১টি গাড়িতে ৩,৯৮৯ জন তীর্থযাত্রী বালতাল বেস ক্যাম্প এবং ১৮২টি গাড়িতে ৪,৮২৬ জন ভক্ত ঐতিহ্যবাহী পাহেলগাম রুট ধরে যাত্রা শুরু করেন।
মঙ্গলবারের এই দলটিকে নিয়ে গত ২ জুলাই থেকে জম্মুর ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প থেকে যাত্রা শুরু করা মোট তীর্থযাত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪,৮২৯-এ। এর আগে গত রবিবার একদিনে সর্বোচ্চ ৬,৭২১ জন এবং সোমবার ৫,৭৯৪ জন যাত্রা করেছিলেন।
এ বছরের অমরনাথ যাত্রা শুরু হয়েছে গত ২ জুলাই এবং তা চলবে আগামী ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। প্রথম চার দিনেই প্রায় ৩,৮৮০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত পবিত্র গুহা মন্দিরে ৯৩ হাজারেরও বেশি ভক্ত বাবা বরফানি দর্শন সম্পন্ন করেছেন। প্রশাসনের আশা, মঙ্গলবারের দলটির যাত্রা শেষের সাথে সাথেই মোট দর্শনার্থীর সংখ্যা এক লক্ষের মাইলফলক অতিক্রম করে যাবে।
অনিবন্ধিত ভক্তদের জন্য জরুরি নির্দেশিকা
তীর্থযাত্রীদের এই অভূতপূর্ব ও উপচে পড়া ভিড়ের কারণে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে:
-
আপাতত যাত্রা স্থগিত: অনিবন্ধিত ভক্তদের (যাঁদের রেজিস্ট্রেশন নেই) আপাতত যাত্রা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-
স্লট ফুল: প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত সমস্ত নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন স্লট সম্পূর্ণ পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।
-
চেকপয়েন্টে কড়াকড়ি: কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শুধুমাত্র বৈধ রেজিস্ট্রেশন থাকা তীর্থযাত্রীরাই কাশ্মীরের দিকে এগোতে পারবেন। যাঁদের নিবন্ধন নেই, নতুন কোটা চালু না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নির্ধারিত চেকপয়েন্টেই অপেক্ষা করতে হবে।
