আজকের দিনেযেদিকে দু-চোখ যায়

শেষ মুহূর্তে পুরী যাওয়ার প্ল্যান? কলকাতা থেকে রোড ট্রিপে রথ দেখার ‘নিখুঁত’ গাইডলাইন

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক : ভক্তেরা বলেন, ‘প্রভু টানলে’ সাড়া না দিয়ে উপায় নেই। আর সেই টানের ডাক যখন-তখন আসতে পারে। রথযাত্রার মাত্র দিন সাতেক আগেও যদি আপনার মনে হয় যে এবার পুরী গিয়ে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা দেখে আসবেন, তবে ‘যেমন ভাবা তেমন কাজ’ করাটা কিন্তু মুখের কথা নয়। রথের মরসুমে এক বছর আগে থেকে ট্রেন, ফ্লাইট বা বাসের টিকিট বুকিং হয়ে যায়, হোটেল পাওয়াও হয়ে ওঠে দুষ্কর। বিশেষ করে সঙ্গে যদি মহিলা, শিশু বা বয়স্করা থাকেন, তবে তো চিন্তার শেষ নেই।

কিন্তু তাই বলে কি ভক্তের ইচ্ছে অপূর্ণ থাকবে? একেবারেই না। নিজের চারচাকা গাড়ি নিয়ে কলকাতা থেকে মাত্র আড়াই দিনের একটা ঝটিতি সফরেই সপরিবারে রথ দেখে চলে আসা সম্ভব। কীভাবে সাজাবেন সেই রোড ট্রিপ? রইল সম্পূর্ণ এবং নিখুঁত গাইডলাইন:

কবে যাবেন: সোজা রথ নাকি উল্টো রথ?

আগামী ১৬ জুলাই সোজা রথযাত্রা এবং ২৪ জুলাই উল্টোরথ । আপনি যদি জুলাইয়ের শুরুতে প্ল্যান করেন, তবে সোজা রথের চেয়ে উল্টো রথের জন্য রোড ট্রিপ সাজানো বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

  • সুবিধা: উল্টো রথে ভিড় তুলনামূলক কম থাকে। তাছাড়া উল্টোরথের ঠিক পরের দিনই মহাপ্রভুকে ‘সোনাবেশ’-এ সাজানো হয়, যা পুণ্যার্থীদের কাছে এক পরম প্রাপ্তি। তবে কেউ সোজা রথ দেখতে চাইলেও এই একই রুট ম্যাপ মেনে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন।

প্রথম দিন: কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু ও ভুবনেশ্বরে রাত কাটানো

  • ভোর ৪টেয় রওনা: রথযাত্রার ঠিক আগের দিন ভোর ৪টেয় কলকাতা থেকে রওনা দিন। এতে কোনা এক্সপ্রেসওয়ের জ্যাম এড়ানো যাবে এবং বাচ্চারাও গাড়িতে আরামে ঘুমাতে পারবে।

  • প্রথম হল্ট (কোলাঘাট – সকাল ৭টা): কোলাঘাটে থমকে প্রাতরাশ সেরে নিন। হাইওয়ের ধাবায় পরিষ্কার শৌচাগার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকায় বয়স্ক ও মহিলারা ফ্রেশ হয়ে নিতে পারবেন।

  • দ্বিতীয় হল্ট (ভদ্রক – দুপুর ১২:৩০টা): খড়্গপুর, বালেশ্বর পেরিয়ে ওড়িশায় ঢুকে ভদ্রকে দুপুরের খাওয়া ও বিশ্রামের জন্য ১ ঘণ্টার বিরতি নিন। এখানকার ফ্যামিলি রেস্তরাঁগুলো বেশ ভালো।

  • বিকেল ৪টেয় ভুবনেশ্বর (হোটেল স্টে): রথের সময় পুরীতে হোটেল পাওয়া অসম্ভব। তাই স্মার্ট ট্রিক হলো পুরী থেকে ৬০ কিমি দূরে ভুবনেশ্বরে থাকা। ভুবনেশ্বর স্টেশন রোড, রসুলগড় বা জয়দেব বিহার এলাকায় সহজেই হোটেল বা গেস্ট হাউজ পেয়ে যাবেন। রাতে এখানেই খেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমান।

দ্বিতীয় দিন: পুরী প্রবেশ ও রথ দর্শন

  • ভোর ৫টায় পুরীর উদ্দেশে রওনা: হোটেল থেকে ব্রেকফাস্ট প্যাক করিয়ে নিয়ে জাতীয় সড়ক ৩১৬ ধরে পুরীর দিকে রওনা দিন। দেড় ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাবেন। পথে গাড়িতেই সকালের খাওয়া সারুন।

  • গাড়ি পার্কিং ও বড়দণ্ডে প্রবেশ: রথের দিন মালতিপাটপুর বা তালবানিয়া পার্কিং লটে গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। সেখানে গাড়ি রেখে ওড়িশা সরকারের বিশেষ রথযাত্রার বাস, অটো বা টোটো ধরে পৌঁছে যান ‘বড়দণ্ড’ বা গ্র্যান্ড রোডে, যেখানে রথযাত্রা হয়।

  • রথ দর্শন ও দুপুরের খাবার: সকাল ৮টার মধ্যে বড়দণ্ডে পৌঁছালে সামনে থেকে সাজানো রথ দেখার সুযোগ পাবেন। সাধারণত দুপুর বা বিকালের দিকে রথ টানা শুরু হয়। ভিড় এড়াতে বড়দণ্ডের দু’পাশের হোটেলের বারান্দা বা ছাদ টাকার বিনিময়ে ভাড়া নিয়ে বসে রথ দেখা সবচেয়ে নিরাপদ।

  • খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা: দুপুরের খাবারের জন্য স্থানীয় রেস্তরাঁয় প্রচণ্ড ভিড় থাকে। তাই বিভিন্ন ধর্মীয় ট্রাস্টের অন্নসত্র থেকে বা ব্যাগে শুকনো খাবার (চিঁড়েভাজা, বিস্কুট, মিষ্টি) ও পর্যাপ্ত জল রাখতে ভুলবেন না। আর শুধু সাজানো রথ দেখে ফিরতে চাইলে স্বর্গদ্বারের দিকে গিয়ে শান্তিতে দুপুরের খাবার খেয়ে নিতে পারেন।

  • বিকেল ৪টেয় ভুবনেশ্বর ফেরা: রথ টানা শুরু হলে ভিড় মারাত্মক বাড়ে। তাই জটিলতা এড়াতে বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যেই পার্কিং লটে ফিরে এসে গাড়ি নিয়ে ভুবনেশ্বরের হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিন।

তৃতীয় দিন: কলকাতার পথে ফেরা

হোটেলে রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিশ্চিন্তে ঘুমান। পরের দিন সকাল ৯টায় প্রাতরাশ সেরে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিন। পথেই খড়্গপুর বা বালেশ্বরের কোনো ধাবায় দুপুরের খাওয়া সেরে নিলে বিকেল ৫টার মধ্যেই আপনি সপরিবারে ফিরে আসবেন কলকাতায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *