জ্ঞানেশ কুমারের হাতে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ! প্রতীক-অফিস কার দখলে?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- দলের ভাঙন, সাংসদ-বিধায়কদের বিদ্রোহের পর এবার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘প্রতীক’ থেকে ‘পার্টি অফিস’ – সবকিছুর চাবি এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে। সোমবার বিকেলের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ নিয়ে দিল্লিতে হাজির হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল তৃণমূল’। এর আগেও শিবসেনা ও NCP-র ক্ষেত্রে একই ফর্মুলায় রায় দিয়েছে EC। তাহলে ঘাসফুল কার?
১. কী হয়েছে তৃণমূলে?
ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূলে ভাঙন স্পষ্ট। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২১ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ক কালীঘাটের নেতৃত্ব মানতে নারাজ। তাঁরা আলাদা জাতীয় কর্মসমিতিও গঠন করেছেন। দুই পক্ষই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে EC-কে চিঠি দিয়েছে।
২. EC কী চেয়েছে?
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দুই শিবিরকেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে বলেছেন। অর্থাৎ কাদের হাতে বেশি সাংসদ, বিধায়ক, দলের পদাধিকারী এবং কার্যকর্তা আছেন তার তথ্য-প্রমাণ। সোমবার বিকেল তার শেষ সময়সীমা।
৩. নজির কী বলছে? শিবসেনা ও NCP-র কেস
EC আগেও দল ভাঙনের ক্ষেত্রে একই নিয়ম ফলো করেছে।
কেস ১: শিবসেনা – ২০২৩
উদ্ধব ঠাকরে বনাম একনাথ শিন্ডে। লড়াই ছিল ‘শিবসেনা’ নাম এবং ‘ধনুষ-বাণ’ প্রতীকের। EC দেখেছিল কার কাছে বেশি বিধায়ক আছে। শিন্ডে শিবিরের ৪০ জন বনাম উদ্ধবের ১৬ জন। তাই ‘শিবসেনা’ নাম ও ‘ধনুষ-বাণ’ প্রতীক পান একনাথ শিন্ডে। উদ্ধবকে নতুন নাম ‘শিবসেনা UBT’ ও প্রতীক ‘মশাল’ দেওয়া হয়।
কেস ২: NCP – ২০২৪
শরদ পাওয়ার বনাম অজিত পাওয়ার। লড়াই ছিল ‘NCP’ নাম এবং ‘ঘড়ি’ প্রতীকের। এখানেও EC সংখ্যা গুনেছে। অজিত শিবিরের ৪১ জন বিধায়ক বনাম শরদের ১৩ জন। তাই ‘NCP’ নাম ও ‘ঘড়ি’ প্রতীক পান অজিত পাওয়ার। শরদকে নতুন নাম ‘NCP-শরদচন্দ্র পাওয়ার’ ও প্রতীক ‘তুরী বাজানো লোক’ দেওয়া হয়।
৪. তৃণমূলের ক্ষেত্রে আইন কী বলছে?
নির্বাচন কমিশনের ‘Election Symbols Order, 1968’ এর 15 নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী EC ২টি জিনিস দেখে:
1. Legislative Majority Test: বিধায়ক ও সাংসদদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা কার।
2. Organizational Test: দলের জাতীয় ও রাজ্য স্তরের পদাধিকারীদের সমর্থন কার দিকে।
বর্তমানে ঋতব্রত শিবির দাবি করছে ৬৫ জন বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে। আর মমতা শিবিরের হাতে দলের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী আছেন। কিন্তু শিবসেনা-NCP নজির বলছে EC-র কাছে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ই শেষ কথা। তাই হলফনামার সংখ্যাই ঠিক করবে ঘাসফুল কার।
৫. কার কী প্রস্তুতি?
মমতা শিবির: ডেরেক ও’ব্রায়েন আজই দিল্লি রওনা। তবে মমতা বলেন, “প্রতীক কেড়ে নিলেও কিছু করতে পারবে না। আমি ঘাসফুল গলায় ঝুলিয়ে রাস্তায় বেরোব।”
ঋতব্রত শিবির: তাঁরাও নথি নিয়ে প্রস্তুত। তাঁদের বক্তব্য, প্রমাণ দেখে EC যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই মানবে।
শিবসেনা ও NCP-র পর এবার তৃণমূল। তিনটি ক্ষেত্রেই একই প্রশ্ন – দলের মালিক কে? EC-র উত্তর একটাই – যার কাছে সংখ্যা আছে। সোমবারের পরই স্পষ্ট হবে প্রতীক, তহবিল, পার্টি অফিস কার। এই রায় শুধু তৃণমূল নয়, গোটা দেশের রাজনীতিতে নজির তৈরি করবে।
