আজকের দিনেতিলোত্তমা

তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্বে স্বয়ং মমতা, নতুন দুই সাধারণ সম্পাদক মদন ও কুণাল

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:মেট্রোপলিটান ভবন দখল এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ইস্তফাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। দু’মাস কাটতে না কাটতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেছে দেওয়া রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে চন্দ্রিমার পদত্যাগে দলের অন্দরে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। আর সেই চ্যালেঞ্জ সামলাতে এবার নিজেই সরাসরি সংগঠনের ব্যাটন হাতে তুলে নিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার বিকেলে কালীঘাটের দলীয় কার্যালয় থেকে ফেসবুক লাইভ করে মমতা ঘোষণা করেন, চন্দ্রিমার বিদায়ের পর দলের রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব এখন থেকে তিনি নিজেই সামলাবেন। পাশাপাশি সংগঠনকে চাঙ্গা করতে এবং কাজ চালানোর সুবিধার্থে দুই নতুন রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেছেন তিনি। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এবং বেলেঘাটার নেতা কুণাল ঘোষ হলেন রাজ্য তৃণমূলের নতুন দুই সাধারণ সম্পাদক।

কেন প্রশ্নের মুখে পড়েছিল চন্দ্রিমার ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’?

শুক্রবার মেট্রোপলিটানে তৃণমূলের কার্যালয়টি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর অনুগামীরা রীতিমতো দখল করে নেন। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে সেখানে বড়সড় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। জানা গেছে, যখন এই ঘটনা ঘটে, সেসময় ওই ভবনে থাকার কথা ছিল দলের তৎকালীন রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের। কিন্তু ভবন দখল প্রতিরোধে তাঁকে কোথাও দেখা যায়নি।

বিপরীতে, খবর পেয়েই সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্ররা। তাঁরা রাত পর্যন্ত সেখানে ছিলেন এবং প্রগতি ময়দান থানায় দখলদারির বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করেন। বিস্তারিত ঘটনা শোনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চন্দ্রিমার কাছে জবাবদিহি চান এবং তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই ‘অভিমানে’ই শনিবার দুপুরের দিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন চন্দ্রিমা এবং বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রতদের সঙ্গে বৈঠকও করেন।

“কে ছেড়ে গেল, তাতে কিছু যায় আসে না”

চন্দ্রিমার ইস্তফা ও দলবদলের জল্পনার মধ্যেই ফেসবুক লাইভে এসে কড়া বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলের রাশ এখন সম্পূর্ণ তাঁর হাতে।

লাইভে কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন: ‘‘কে ছেড়ে গেল, তাতে কিছু যায় আসে না। আমি নেতা চাই না, সাধারণ কর্মী চাই। দলের রাজ্য সংগঠনটাও এখন আমি চালাব। আপাতত সারাদিন দলটাই দেখব। এমনি আমি রোজ এই পার্টি অফিসে বসি, কর্মীদের সঙ্গে দেখা করি। এবার থেকে আরও বেশি সময় দেব। এছাড়া কাজ চালাতে সুবিধার জন্য দু’জন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ঠিক করেছি— মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষ। তাঁরা এই কাজে আমাকে সাহায্য করবেন।’’

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চন্দ্রিমার আকস্মিক দলত্যাগ ‘কালীঘাট’-এর জন্য বড় ধাক্কা হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সংগঠনের দায়িত্ব নেওয়ায় এবং মদন-কুণালের মতো লড়াকু নেতাদের সামনে আনায় বিদ্রোহী শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াই এবার আরও তীব্র হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *