FIFA Wordcup 26 : কোনওমতে প্রি-কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা, কাবো ভার্দে দেখিয়ে দিল মেসিদের দুর্বলতা !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মায়ামি :- বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টারে উঠল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সাড়ে পাঁচ লক্ষ জনসংখ্যার দেশ কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে জিততে ঘাম ঝরল মেসিদের। ১২০ মিনিট লড়াই, দু’বার লিড নিয়েও তা ধরে রাখতে পারেনি গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলে ৩-২ জয়। তবে এই জয়ে খুশি হওয়ার জায়গা নেই। বরং কাবো ভার্দের ‘টাফ’ ফুটবল আর্জেন্টিনার ফাঁকগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
মায়ামির গরমে শুরু থেকেই আগ্রাসী কাবো ভার্দে। আর্জেন্টিনাকে সমীহ না করে বারবার আক্রমণে উঠছিল তারা। ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের অসাধারণ লম্বা পাস থেকে মেসি গোল করে এগিয়ে দেন। কিন্তু লিড ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। কাবো ভার্দের চাপে বারবার রক্ষণ নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
ম্যাচের বাকি সময়টা ছিল মেসি বনাম ভোজ়িনহার লড়াই। ৪০ বছরের কাবো ভার্দের গোলকিপার ভোজ়িনহা একাই ম্যাচ বাঁচালেন। মেসির অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল তিনি আটকান। ডান-বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে, চিৎকার করে সতীর্থদের গাইড করে খেলা গড়ালেন অতিরিক্ত সময়ে। জ়োনাল মার্কিং করে গোটা দলই আটকে রাখল মেসিকে। ফলে সতীর্থদের গোলের পাস বাড়াতে পারছিলেন না তিনি।
পিছিয়ে পড়েও দু’বার সমতা ফেরায় কাবো ভার্দে। এটাই দেখিয়ে দিল তাদের মানসিকতা। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে আত্মঘাতী গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ৩-২ ব্যবধানে জিতলেও ম্যাচের শেষে মেসি নিজেই একে একে কাবো ভার্দের ফুটবলারদের জড়িয়ে ধরে ধন্যবাদ জানান।
আর্জেন্টিনার দুর্বলতাও স্পষ্ট। রক্ষণে ছন্দপতন, ছোট দলকে হালকা ভাবে নেওয়া এবং গরমে ফিটনেসের ঘাটতি – সবই সামনে এল। কাবো ভার্দে অবশ্য প্রথম বিশ্বকাপেই ইতিহাস লিখে গেল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নাকানি-চোবানি খাওয়ানো এই লড়াই ছোট দেশগুলির কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
জয় এল বটে, কিন্তু স্বস্তি নেই। প্রি-কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিশর। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে যে ফাঁকগুলো ধরা পড়ল, সেগুলো না শুধরালে মেসিদের আরও কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। আর ভোজ়িনহা-কাবো ভার্দে? তারা হারলেও মাথা উঁচু করে বিদায় নিল। এই বিশ্বকাপ মনে রাখবে ৪০ বছরের এক গোলকিপার আর সাড়ে পাঁচ লক্ষের একটা দেশের অদম্য লড়াইকে।
