বিধান ভবনে নজিরবিহীন তুলকালাম, হাতাহাতি-মারামারি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের কংগ্রেসে যোগদানের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল প্রদেশ কংগ্রেসের সদর কার্যালয় ‘বিধান ভবন’। ওই প্রাক্তন কাউন্সিলরকে কোনোভাবেই দলে নেওয়া যাবে না— এই দাবি তুলে শুক্রবার দুপুরে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন কংগ্রেস কর্মীদের একাংশ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, দু’পক্ষের মধ্যে রীতিমতো হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের আটকাতে বিধান ভবনের দরজা আগলে দাঁড়িয়ে পড়তে হয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের।
কেন এই বিক্ষোভ? কাঠগড়ায় রেহনা খাতুন
কলকাতা পুরসভার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর রেহনা খাতুনকে কেন্দ্র করে এই গোটা বিবাদের সূত্রপাত। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ শুক্রবার অনুগামীদের সাথে নিয়ে মৌলালির বিধান ভবনে যোগদানের উদ্দেশ্যে পৌঁছেছিলেন রেহনা। কিন্তু তিনি পা রাখতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সেখানে উপস্থিত কংগ্রেস কর্মীরা।
বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ:
-
দুর্নীতির খতিয়ান: কংগ্রেস কর্মীদের দাবি, তৃণমূলের ওই প্রাক্তন কাউন্সিলর একাধিক দুর্নীতিমূলক কাজের সাথে যুক্ত।
-
কংগ্রেস কর্মীদের ওপর অত্যাচার: তৃণমূলের শাসনকালে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে বহু কংগ্রেস কর্মী তাঁর ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা আক্রান্ত ও হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন।
বিক্ষোভকারীদের সাফ কথা, যিনি একসময় কংগ্রেস কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন, তাঁকে আজ কোনোভাবেই হাতশিবিরে জায়গা দেওয়া যাবে না।
বিধান ভবনের ভেতরে-বাইরে ধুন্ধুমার
দুপুরে রেহনা খাতুন যখন বিধান ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন, তখন বাইরে বিক্ষোভের পারদ চরম সীমায় পৌঁছায়। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে রেহনা খাতুনকে অবিলম্বে কংগ্রেস অফিস থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কংগ্রেসেরই দুই গোষ্ঠীর বা অনুগামীদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়ে যায়। উত্তেজনা এমন পর্যায়ে যায় যে, বিক্ষোভকারীরা যাতে ভেতরে ঢুকে কোনো বড়সড় অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটিয়ে ফেলে, তার জন্য দলের নেতারা অফিসের মূল দরজা আটকে কোনো রকমে দাঁড়িয়ে থাকেন।
দফায় দফায় বিক্ষোভ, চরম অস্বস্তিতে নেতৃত্ব
এদিন দুপুরে দফায় দফায় চলে এই বিক্ষোভ ও উত্তেজনা। প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত কর্মীদের বুঝিয়ে শান্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান। দলবদলের এই আবহে ঘরের ভেতরের এই নজিরবিহীন কোন্দল ও মারামারির ঘটনা যে ছাব্বিশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস নেতৃত্বকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই ঘটনার পর রেহনা খাতুনের যোগদান শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হলো কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।
